


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিরোধীদের যাবতীয় আপত্তি অগ্রাহ্য করেই সংসদীয় কমিটিতে গৃহীত হল নতুন আয়কর বিল। বুধবার বিল সংক্রান্ত লোকসভার সিলেক্ট কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতভাবেই গ্রহণ করা হয়েছে ৩,৭৯০ পাতার রিপোর্টটি। যদিও কিছু ক্ষেত্রে বিরোধীদের আপত্তি রয়েই গিয়েছে। সেগুলি মতামত তথা প্রস্তাব আকারে দু’-একদিনের মধ্যে জমা দিতে পারবেন তাঁরা। তারপরই আগামী সোমবার লোকসভায় বিল সংক্রান্ত রিপোর্টটি সরকারকে পেশ করবেন কমিটির চেয়ারম্যান বিজেপি সাংসদ বৈজয়ন্ত পান্ডা। আগামী ২১ জুলাই থেকেই শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। চলবে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত। তারই মধ্যে নতুন আয়কর বিল পাশ করাতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। এবার অধিবেশনে মোট ১২টি বিল পাশ করানোর জন্যই তালিকাবদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে মণিপুর জিএসটি সংশোধনী, জনবিশ্বাস সংশোধনী, খনিজ সংক্রান্ত আটটি নতুন বিল রয়েছে।
‘দ্য ইনকাম ট্যাক্স বিল ২০২৫’ অবশ্য সাধারণ মানুষের কর পরিকাঠামো সংক্রান্ত কোনও বিষয় নিয়ে নয়। এটি আয়কর জমা দেওয়ার পদ্ধতি সংক্রান্ত বিল। যেখানে স্রেফ কিছু শব্দ, কমা, দাঁড়ি পরিবর্তনের বিষয়। ২৮৫টি সুপারিশ জমা পড়েছে। এই বিল পাশ হলে ১৯৬১ সালের আয়কর আইন বাতিল হয়ে যাবে। নতুন বিলটি নিয়ে কারও আপত্তি বা কোনও প্রস্তাব আছে কি না, তা
নিয়ে আলোচনা করতে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি তা পাঠানো হয় লোকসভার সিলেক্ট কমিটিতে। এ পর্যন্ত ৩৬টি বৈঠক করেছে ওই কমিটি। বুধবার তৈরি করে ফেলা হয়েছে রিপোর্ট। এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র, আরএসপি’র এম কে প্রেমচন্দ্রন, এনসিপি (শারদ) সুপ্রিয়া সুলে, উদ্ধবপন্থী শিবসেনার অরবিন্দ সাওয়ান্তর মতো সাংসদরা।
বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, আয়কর অফিসারদের (ইনকাম ট্যাক্স অ্যাসেসি) হাতে ‘অতি’ ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি তুলেছেন বিরোধী সাংসদের সিংহভাগই। বিলে মোট ৫৩৬টি ধারা রয়েছে। তার মধ্যে ২৪৭ ধারার ১ নম্বর উপধারা অনুযায়ী, কোনও আয়কর
অফিসার সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যাবতীয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টও বাজেয়াপ্ত করতে পারবে। সার্চ অ্যান্ড সিজারের নামে যাবতীয় কিছু বাজেয়াপ্ত করারই বিপক্ষে মহুয়া, প্রেমচন্দ্রনেরা। তাঁদের আপত্তির কারণ, এতে যে কোনও আয়করদাতার ব্যক্তিগত তথ্য আয়কর অফিসারদের হাতে চলে যাবে। তাই বিলের এই অংশকে বাদ দেওয়ার পক্ষেই সওয়াল করেন বিরোধী সাংসদরা। যদিও সেই আপত্তি গ্রাহ্য হয়নি।