নামের আদ্যক্ষর মিলিয়ে লকেট এখন ফ্যাশনে জনপ্রিয়। কীভাবে করবেন সেই স্টাইল?
নামের আদ্যক্ষর মিলিয়ে লকেট এখন ফ্যাশনে জনপ্রিয়। কীভাবে করবেন সেই স্টাইল?
চোকার, সীতাহার, মটরমালা— রকমারি নাম রয়েছে কণ্ঠহারের। বহু যুগ ধরেই সাজসজ্জার অন্যতম আভূষণ কণ্ঠহার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্টাইলের পরিবর্তন হয়েছে। সাবেকি গয়নার পাশাপাশি আধুনিকতার ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে ট্রেন্ডি জুয়েলারি। দিন কয়েক আগে জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে অভিনেত্রী রানি মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠহার নজর কেড়েছিল সকলের। মেয়ের নামের বিভিন্ন অক্ষর গেঁথে ‘আদিরা’ লেখা হার পরেছিলেন রানি। শুধু রানি মুখোপাধ্যায় বা তারকারাই নন, আমজনতার মধ্যেও এই ধরনের ‘অ্যালফাবেট নেকপিস’ ভীষণ জনপ্রিয়। অনেকেই শুধুমাত্র নামের আদ্যক্ষর মিলিয়ে লকেট পরেন। আবার অনেকের গলায় দেখা যায় প্রিয়জনের পুরো নাম খোদাই করা লকেট। সরু চেনের মধ্যে একটিমাত্র অ্যালফাবেট লকেট বা পুরো নামসহ লকেট— শাড়ি, ওয়েস্টার্ন বা অন্য যে কোনও ধরনের পোশাকের সঙ্গেই দিব্যি মানিয়ে যাচ্ছে। তাই বড় ব্র্যান্ডের হীরে, প্ল্যাটিনাম দিয়ে বানানো গয়নার পাশাপাশি ইমিটেশন গয়নাতেও এই ধরনের হারের বিক্রি বাড়ছে।
ট্রেন্ডি, হালকা ওজনের অ্যালফাবেট দিয়ে সাজানো এই ধরনের হারকে অনেকেই কোরিয়ান গয়নার সঙ্গেও তুলনা করছেন। কোরিয়ান গয়নার ফ্যাশন এই মুহূর্তে অল্পবয়সিদের মধ্যে জনপ্রিয়। এই ধরনের গয়না ট্র্যাডিশনাল পোশাকের সঙ্গেও পরা যায় আবার ট্রেন্ডি পোশাকের সঙ্গেও টিম আপ করা যায়। ভারী গয়না কোনও বিশেষ অনুষ্ঠান ছাড়া সেভাবে পরা হয়ে ওঠে না। কিন্তু, এই ধরনের ট্রেন্ডি গয়না যে কোনও ছোট অনুষ্ঠানেও ব্যবহার করা যায়। কোনও পার্টি হোক বা অফিসওয়্যার সব ক্ষেত্রেই এই গয়নার জুড়ি মেলা ভার। তাই জেন জি এই ধরনের গয়নার প্রতি আকৃষ্ট।
গয়নার ধরনের বদল প্রসঙ্গে জুয়েলারি ডিজাইনার পূজা আগরওয়াল বললেন, ‘প্রতিটা গয়না আলাদা আলাদা গল্প বলে। ফ্যাশনের সঙ্গে পছন্দেরও রকমফের হয়। এখন পুরো নাম বা নামের আদ্যক্ষর দিয়ে বানানো হারের চাহিদা তুঙ্গে। আমার মনে হয় প্রিয় মানুষের প্রতি ভালোবাসা আরও দৃঢ়ভাবে বোঝাতে অনেকেই এই ধরনের জুয়েলারি বেছে নিচ্ছেন। এতে সম্পর্কের গভীরতা আরও দৃঢ় হচ্ছে।’
তবে গয়নার ডিজাইনে যতই পরিবর্তন হোক এখনও বিয়েতে বা কোনও অনুষ্ঠানে বেশিরভাগেরই পছন্দ সোনার গয়না। বাঙালি কনেরা বিয়ের দিন বেনারসির সঙ্গে সোনার গয়নার যুগলবন্দিকেই এগিয়ে রাখেন। যদিও রিসেপশনে অন্য ধরনের গয়নার এক্সপেরিমেন্ট বেশ চোখে পড়ার মতো। সেক্ষেত্রে হিরে, কুন্দন বা বাহারি স্টোনের গয়না প্রথম সারিতে থাকে। বর্তমানে সোনার বাজার মূল্য এবং পছন্দের পরিবর্তনের কারণে হালকা ওজনের ট্রেন্ডি গয়না ভীষণভাবে ইন ফ্যাশন। শাড়ির বদলে লেহেঙ্গা হোক বা ওয়েস্টার্ন পার্টি ওয়্যার— এই ধরনের গয়না সে সব পোশাকের সঙ্গেও ক্যারি করতে পারেন। ভারী ওজনের গয়না পরতে অনেকে স্বচ্ছন্দ নন। তাঁরাও এই ধরনের হালকা গয়নার কথা ভাবতে পারেন। তাহলে আর দেরি কীসের? নিজের বা প্রিয় মানুষের নামের অক্ষর পরপর সাজিয়ে এবার গয়না তৈরি করে নিন। আপনার স্টাইল হবে নজরকাড়া। পাশাপাশি ভালোবাসার মানুষটিও এতে খুশি হবেন।
পূর্বাশা দাস