শেরপার পেশায় পুরুষদেরই আধিপত্য। কিন্তু এই পুরুষকেন্দ্রিক পেশায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এমনও মহিলাও আছেন। তিনি লাখপা শেরপা। নেপালি এই কন্যার মুকুটে রয়েছে দশবার এভারেস্ট জয়ের পালক। তিনি কোনও নেশার বশে পাহাড় চড়া শুরু করেননি, বরং বাঁচার তাগিদে করেছিলেন। সেখানেই তাঁর মুক্তি। মাকালু পর্বতের কোলে লাখপার গ্রাম। বাবা মায়ের এগারোতম সন্তান, ছোট থেকেই মেয়ের বিয়ে দিতে চাইতেন মা। লেখাপড়া শেখাননি একটুও। বাড়ির কাজ শিখতে বলতেন। লাখপা পালিয়ে বাঁচত। খালি পায়ে বরফে ঢাকা পাহাড় চড়ত নেশার বশে। লাখপার বাবা ছিলেন মেষপালক। মেয়ের পর্বতের নেশার কথা তাঁর অজানা ছিল না। তাই তিনি মেয়েকে পাহাড়ে যাওয়ার সময় সুযোগ করে দিতেন। চমরিগুলোকে ঘরে আনার অছিলায় খানিক পাহাড়ের গায়ে হেঁটে আসত মেয়েটি। একদিন সন্ধের ঝোঁকে পাহাড়ের কোল থেকে চমরিগুলোকে ঘরে ফেরাতে গিয়েছিল লাখপা। সেখানেই দেখেন পর্বতারোহীদের। খুব লোভ হয়েছিল তাঁর। মনে হয়েছিল, ‘ইশ! এমন জীবন যদি আমার হতো।’ লাখপাদের বাড়ি থেকেই এভারেস্ট দেখা যেত। কিন্তু সেখানে যাওয়া স্বপ্ন বই তো নয়। সেই স্বপ্নও একদিন সফল হয়। গ্রামের শেরপা বাবু ছিরির চোখে পড়ে যান তিনি। মালবাহক হিসেবে শুরু হয় পাহাড় চড়ার গপ্প। সেখান থেকে কিচেন ‘বয়’। গার্ল বলা চলবে না কিন্তু। এই কাজে মেয়েরা ব্রাত্য।



