Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

অপরাধীদের মানসিকতা বোঝা প্রয়োজন

কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী সম্পূর্ণা ঘোষ। অল্প বয়স থে঩কেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ক্রিমিনাল ল প্র্যাকটিস করবেন। সেই মতোই তাঁর পড়াশোনা।

অপরাধীদের মানসিকতা বোঝা প্রয়োজন
  • ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী সম্পূর্ণা ঘোষ। অল্প বয়স থে঩কেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ক্রিমিনাল ল প্র্যাকটিস করবেন। সেই মতোই তাঁর পড়াশোনা। আইন নিয়ে পড়াকালীন বিভিন্ন সময় সংশোধনাগারে গিয়ে অপরাধীদের সঙ্গে কথা বলেছেন সম্পূর্ণা। তাঁদের মধ্যে কারও কারও আচরণ তাঁকে ভাবিয়েছে। তিনি দেখেছেন খুন করার পর কেমন একটা মানসিক চাপে বিপর্যস্ত হয়ে রয়েছেন এঁদের মধ্যে কেউ কেউ। আবার কারও মধ্যে ‘ডোন্ট কেয়ার’ ভাব।

Advertisement

তিনি বুঝতে পারেন, সব অপরাধীর মানসিকতা এক নয়। ক্রাইমের পর এক একজন অনুতাপে ভোগে আবার কেউ ভোগেও না। যারা অনুতপ্ত, তাদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করতে শুরু করেন সম্পূর্ণা। তিনি উপলব্ধি করেন অনেকেই হয়তো হঠাৎ রাগের মাথায় খুন করে ফেলে। কারও ক্ষেত্রে খুনটা একটা দুর্ঘটনা। না চেয়েও ঝগড়া করতে গিয়ে কাউকে কষিয়ে থাপ্পড় মারল। ভুল জায়গায় আঘাত লেগে লোকটি মারা গেল। ব্যস, সারা জীবনের মতো সেই লোকটির মাথায় ‘খুনি’ তকমা লেগে গেল । আবার কেউ হার্ডকোর ক্রিমিনাল। খুন করার জন্যই করেছে। এই যে এদের দুটো ভাগ,এতে কিন্তু সাজার কোনও ফারাক হয় না। একই ধারায় শাস্তি পায় সব খুনি। ফলে কিছু অপরাধীর মনের উপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। কেউ সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে পাগল হয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে এমনও দেখেছেন টাকার অভাবে সঠিক বিচার মেলেনি কোনও এক বা একাধিক অপরাধীর। তাঁরা অল্প কোনও অপরাধেও বছরের পর বছর সংশোধনাগারের অন্ধকার কুঠুরিতে জীবন কাটাচ্ছেন। এই মানুষগুলোর জন্য ন্যায্য বিচার আনাই সম্পূর্ণার উদ্দেশ্য। তাঁদের বিচারপ্রাপ্তি, ছাড়া পাওয়ার পর কখনও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়াও তাঁর কাজ। এমনকী, পরিবার যদি তাকে মেনে নিতে না চায়, তাহলে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে রাখারও দায়িত্ব পালন করেন। অপরাধীদের সমাজের মূল স্রোতে ফেরানোর চেষ্টা, উপার্জনের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি বহু বছর ধরেই করে আসছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘অল্প বয়স থেকেই আমি মনে করি অপরাধীদের মানসিকতা নিয়ে কাজ হওয়া দরকার। একই বিভাগে সবাইকে ফেলা ঠিক নয়। তাদের মানসিকতার বিভেদটা আমি কলেজে পড়াকালীন একটা তথ্যচিত্রর মাধ্যমে দেখিয়েছিলাম। এখন সেই কাজটাই হাতেকলমে করছি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ