Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

চাকরির বাজারে নম্বর গুরুত্ব পায়, শেখা় নয়

যুগ যুগ ধরে নম্বর সেরাদের মানদণ্ড। আর এই মানদণ্ড মাপা হয় বিভিন্ন পরীক্ষায়, তা লিপিবদ্ধ থাকে মার্কশিটে। নিয়মিত অধ্যবসায়ে পরীক্ষায় নম্বর বাড়ে।

চাকরির বাজারে নম্বর গুরুত্ব পায়, শেখা় নয়
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

পক্ষে

Advertisement

 দীপংকর মান্না
যুগ যুগ ধরে নম্বর সেরাদের মানদণ্ড। আর এই মানদণ্ড মাপা হয় বিভিন্ন পরীক্ষায়, তা লিপিবদ্ধ থাকে মার্কশিটে। নিয়মিত অধ্যবসায়ে পরীক্ষায় নম্বর বাড়ে। তাই বেশি নম্বর মানে মেধাবী ছাত্র। মেধাবী ছাত্র মানে যে কোনও কাজে পারদর্শী। মানে অল্প সময়ে সাফল্য। সেই জন্য চাকরির বাজার নম্বরে গুরুত্ব দেয়। যেহেতু চাকরির বাজার নম্বরে গুরুত্ব দেয়, তাই সবাই বেশি নম্বর পাওয়ার চেষ্টা করে।
রিসেপশনিস্ট 

 শ্বেতা চ্যাটার্জি
নিজের অভিজ্ঞতা দিয়েই দেখেছি, নম্বরের জোরে অনেকেই এগিয়ে গিয়েছে। চাকরির বাজারে আজও নম্বর গুরুত্ব পায়। আপনি কী জানেন, সেটা দেখা হয় পরে। কিন্তু ভালো নম্বর নিয়ে আপনি পাশ করলে চাকরির ক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে থাকা যায়। ভালো নম্বর আপনাকে অনেকটা এগিয়ে দেবে অন্তত আজকের দিনে। কারণ শেখার সঙ্গে নম্বরের ওজন থাকলে তবেই আজকের যুগে সফল হওয়ার জন্য একধাপ এগনো যায়। 
স্নাতকোত্তর পড়ুয়া 

 দেবাজীব সরকার
চাকরির বাজারে নম্বর গুরুত্ব পায়। কারণ একটা বড় কলেজের সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্তকে কোনও কোম্পানি যখন নিয়োগ করে, তখন কোম্পানির কাছেও সেটা সম্মানের। একই কলেজের তৃতীয়, চতুর্থ স্থানাধিকারীর জ্ঞান বেশি হলেও চাকরির বাজারে প্রথমেই ধরে নেওয়া হয়, যার নম্বর বেশি সেই যোগ্যতম। নম্বর কম মানে চাকরির বাজারে প্রথম পর্যায়েই সে বাতিলের দলে। প্রথমে সার্টিফিকেটের নম্বর, তারপর গুরুত্ব পায় কে কতটা জানে বা শিখেছে। 
বেসরকারি চাকুরে

 জয় মণ্ডল
বিশ্ববিদ্যালয়গুলি ডিগ্রি দিচ্ছে, কিন্তু কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সৃজনশীলতা শেখাতে ব্যর্থ। খুব কম জায়গা আছে, যারা স্কিল টেস্ট নিয়ে চাকরি দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চাকরি শুধুমাত্র ডিগ্রি বা পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের উপর ভিত্তি করেই হয়। দেখা যায়, উচ্চ শতাংশের অধিকারী শিক্ষার্থীরা দ্রুত প্রথম ধাপের ইন্টারভিউ পার হয়। তারপর হয়তো তারা কাজের চাপ সামলাতে অনেকাংশেই ব্যর্থ হচ্ছে। তবু রেজাল্টের পিছনেই ছুটছে চাকরিক্ষেত্র। এই প্রবণতা পরিবর্তন হওয়া জরুরি। চাকরির বাজারে ডিগ্রিধারী রোবটের প্রয়োজন নেই, বরং দক্ষ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীর দরকার।
ডাক্তারি ছাত্র

বিপক্ষে

 সৌম্যজিত মণ্ডল
চাকরির বাজার নম্বর দেখে মানুষকে গুরুত্ব দেয়— এটা খুবই একপাক্ষিক ধারণা। নম্বর হয়তো শুরুতে দরজা খুলে দেয়, কিন্তু নম্বর আসল চাবিকাঠি নয়। মানুষের দক্ষতাই স্বীকৃতি পায়। বিশেষত এখনকার কোম্পানিগুলো চায় এমন ব্যক্তি, যারা কাজ শিখতে চায়, চেষ্টা করতে জানে। বর্তমানে ইন্টারভিউ, প্রজেক্ট, ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা, যোগাযোগের দক্ষতা— এসবই প্রকৃত যোগ্যতাকে প্রমাণ করে। পরিস্থিতি সামলানোর বুদ্ধি, সৃজনশীল চিন্তা, দলগত কাজ এই গুণগুলোই একজন কর্মীর পরিচয়কে কাজের প্রতি পরিপূর্ণতা দান করে। ফলে চাকরির বাজার নম্বর নয়, মানুষের মেধা, মনোভাব আর শেখার শক্তিকেই বেশি মূল্য দেয়।
বি.টেক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র

 অনিশ রায় চৌধুরি
বর্তমান সময়ে কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তিগত জ্ঞান, কথা বলার দক্ষতা এবং শেখার আগ্রহ থাকা জরুরি। শুধুমাত্র পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে চাকরি অসম্ভব বলেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি নানারকম কর্মসংস্থান ভিত্তিক কোর্স করিয়ে থাকে। কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক শিক্ষানীতি ২০২০-র অন্তর্গত অন্যতম নীতি হল কারিগরি ও দক্ষতা শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া। দক্ষতাবৃদ্ধির অভাবে কোম্পানিগুলি থেকে কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর প্রায়ই শোনা যায়। সুতরাং এটা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে চাকরির বাজার নম্বর নয়, শেখায় দেয় প্রাধান্য।
আইটি কর্মী

 অ্যামেলিয়া দাস
চাকরি মানেই অর্জিত জ্ঞানের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ। নম্বর তো এখন সবারই ওঠে, তাও যথেষ্ট উচ্চ মানের। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হতে পারে তা মুখস্থবিদ্যার ফল। আর চাকরি মানে কোনও না কোনও দায়িত্ব, যার জন্য যোগ্যতা দরকার। যে শেখে, সে পারে। মুখস্থবিদ্যা সবসময়ে কাজে নাও লাগতে পারে। যে শেখে, সে দায়িত্ব সামলাতে জানে। কতটা তুমি শিখতে পারলে সেটাই গুরুত্ব পাবে, বাস্তব জীবনেই হোক বা চাকরির বাজারে।
ছাত্রী 

 সুস্নাত ঘোষ দস্তিদার
চাকরির বাজার যখন আদতে ‘বাজার’, তখন গুণমান যাচাই তো করতেই হয়। যেখানে সংস্থার ভালোমন্দের সঙ্গে নিয়োগকারীর মন্দ-ভালো প্রত্যক্ষভাবে অর্থাৎ ‘হাতেগরম’ জড়িত, তখন এর ব্যত্যয় হয় কি? পর্ষদ, সংসদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষলব্ধ গুণমান একটা উৎকর্ষের বিষয় বটে, তবে তা তো সন্দেহাতীত নয়! অতএব সংস্থার এবং তৎসহ নিয়োগকর্তার নিজের কল্যাণেই প্রার্থীর অর্জিত প্রয়োগ-ক্ষমতা যাচাই হতে হয়। কিন্তু যাঁদের প্রতিযোগিতার এই ‘বাজার’-এ ‘করে খেতে’ হয়, তাঁদের তো প্রার্থীকে ‘বাজিয়ে’ নিতেই হবে। তাঁদের কাছে শেখার মানই আসল পরীক্ষা।
সহকারী শিক্ষক

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ