Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

এভারেস্ট চূড়ায় মেয়েরা: এক পায়ে পর্বত জয়ী অরুণিমা সিনহা

২০১১ সাল। ট্রেনে চড়ে ফিরছিলেন মহিলা ভলিবল খেলোয়াড় অরুণিমা সিংহ। ডাকাত পড়েছিল ট্রেনে। অরুণিমার উপর হামলা হয়। গলার সোনার চেনটা ছিনিয়ে নিতে এগিয়ে আসে ডাকাতের দল। বাধা দেন অরুণিমা। চলে প্রবল সংঘর্ষ।

এভারেস্ট চূড়ায় মেয়েরা: এক পায়ে পর্বত জয়ী  অরুণিমা সিনহা
  • ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

২০১১ সাল। ট্রেনে চড়ে ফিরছিলেন মহিলা ভলিবল খেলোয়াড় অরুণিমা সিংহ। ডাকাত পড়েছিল ট্রেনে। অরুণিমার উপর হামলা হয়। গলার সোনার চেনটা ছিনিয়ে নিতে এগিয়ে আসে ডাকাতের দল। বাধা দেন অরুণিমা। চলে প্রবল সংঘর্ষ। শেষ পর্যন্ত ধস্তাধস্তিতে ট্রেনের কামরা থেকে অরুণিমাকে বাইরে ফেলে দেয় ডাকাতদল। দুর্ঘটনায় তিনি যে প্রাণে বেঁচেছিলেন এটাই আশ্চর্য। কিন্তু একটা পা বাদ যায় তাঁর। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জীবনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে অরুণিমা প্রতিজ্ঞা করেন, তিনি এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করবেন। এভারেস্ট চূড়ায় চড়বেন। ২০১৩ সালে তাঁর স্বপ্ন সফল হয়েছিল। তিনিই হয়ে ওঠেন প্রথম মহিলা, যিনি এক পা নিয়েই মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন। পেয়েছেন পদ্মশ্রী সম্মানও।  

Advertisement

মাত্র তিন বছর বয়সে বাবাকে হারান অরুণিমা। মা ছিলেন বটে, কিন্তু পরিবারের দায়িত্ব নেন বড় জামাইবাবু। অরুণিমাদের ছিল খেলাপাগল পরিবার। আর অরুণিমা আবার তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অ্যাথলেটিক। দৌড় প্রতিযোগিতা, সাইক্লিং, সাঁতার সবেতেই দড়। খেলাকে পেশা করে এগতে পারতেন। কিন্তু সংসার চালাতে টাকাও দরকার। তাই পড়াশোনা শেষ হতে না হতেই চাকরির খোঁজ চালাতে শুরু করেন। খেলাকে ঠেলে দেন পিছনের সিটে। এই সিদ্ধান্তে বেঁকে বসলেন জামাইবাবু। বললেন,‘পার্ট টাইম চাকরির পাশাপাশি খেলাটা চালিয়ে যা, টাকার জোগাড় হয়ে যাবে।’ সেই থেকেই আবারও খেলা নিয়ে মেতে ওঠেন অরুণিমা। এবং ভলিবলে জাতীয় স্তরের উঠতি খেলোয়াড় হিসেবে বেশ নামও করে ফেলেন। কিন্তু ভাগ্য সহায় হল না। দুর্ঘটনায় পা বাদ গেলে তাঁকে খেলা ছাড়তেই হল। তাই বলে জীবনের কাছে হার মানার পাত্রী নন তিনি। মনের জোরে এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করলেন। আর সেখানেই থেমে যাননি। একে একে সেভেন সামিটও সম্পূর্ণ করেছেন। ‘আমাদের ভাগ্য জন্মের সময়ই লেখা হয়ে যায়। এই যেমন আমি পাহাড় চড়ার কথা কোনও দিন স্বপ্নেও ভাবিনি। অথচ ভাগ্য আমাকে সে পথেই নিয়ে গেল। পা হারানোর পর সহজ জীবন বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল আমার। কিন্তু মন মানতে চায়নি। তাই পাহাড়ে চড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। আমার সৌভাগ্য যে এই স্বপ্ন সফল করতে পেরেছি। স্বীকৃতি বা সম্মান যা পেয়েছি, তা অবশ্যই শিরোধার্য, কিন্তু আমার কাছে স্বপ্ন পূরণটাই আসল কথা।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ