রেজোলিউশন বা প্রতিজ্ঞা করলেও তা পূরণ করার পথে কত বাধা! প্রথমে উৎসাহ থাকলেও অবশেষে হার মানতে হয়। কোন কোন কৌশল অবলম্বন করলে আর ব্যর্থ হবেন না?
রেজোলিউশন বা প্রতিজ্ঞা করলেও তা পূরণ করার পথে কত বাধা! প্রথমে উৎসাহ থাকলেও অবশেষে হার মানতে হয়। কোন কোন কৌশল অবলম্বন করলে আর ব্যর্থ হবেন না?
ক্যালেন্ডারের হিসেবে হাতে আর দিন চারেক সময়। তারপরেই নতুন একটা বছর শুরু দুনিয়া জুড়ে। শীত মহোৎসবের অন্যতম এই ‘নিউ ইয়ার সেলিব্রেশন’! ইংরেজি ক্যালেন্ডারে নতুন বছর আসার সময় সঙ্গে করে নিয়ে আসে রেজোলিউশনের হাতছানি। নতুন উদ্যমে যে কোনও শুভ কাজ নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে করতে চান অনেকে। তাই রেজোলিউশনও নিয়ে ফেলেন ১ জানুয়ারি থেকে পালন করার উদ্দেশ্যে।
প্রতিজ্ঞার ইতিহাস
নতুন বছরে রেজোলিউশন নেওয়া যে দুনিয়া জুড়ে বিভিন্ন মানুষের সংস্কৃতিতে ঢুকে পড়ল, তা কিন্তু একদিনে হয়নি। সে বহু আগের কথা। তখন ক্যালেন্ডার আসেনি। সেই সময় বসন্ত বিষুবের প্রথম পূর্ণিমাই ছিল নববর্ষ পালনের সময়। পোশাকি নাম ছিল আকিতু ফেস্টিভ্যাল। এই ফেস্টিভ্যাল ঘটা করে পালন হতো ব্যাবিলনে। সূর্য দেবতা মারডুককে উৎসর্গ করে ১১ দিন ধরে চলত উৎসব। ব্যাবিলনীয়রা ধর্মীয় উপাসকের কাছে শপথ নিতেন, যাতে বছর জুড়ে প্রতিটি কাজ ভালোভাবে করতে পারেন। তারপর এই রেশ ছড়ায় রোমানদের মধ্যে। জ্যোতির্বিদ ও গণিতজ্ঞদের সাহায্য নিয়ে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার ক্যালেন্ডার তৈরি করলেন। রোমান দেবতা জানুস-এর নামানুসারেই বছরের প্রথম মাসের নাম হল জানুয়ারি! তা থেকেই বছরের প্রথম দিন আরাধ্য দেবতার উদ্দেশ্যে কিছু উৎসর্গ করার প্রথা এল। কেউ দিলেন অর্থ, কেউ সামগ্রী, কেউ আবার মনের ষড়ঋপুকে বলি দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করলেন। কেউ বা ঈশ্বরের কাছে ভালো কোনও কাজ উৎসর্গ করলেন। সেই প্রথাই বিবর্তিত হতে হতে এল রেজোলিউশন।
কী কী প্রতিজ্ঞা জনপ্রিয়
ঠিক সময়ে খাওয়াদাওয়া করা, উপযুক্ত খাবার খাওয়া অন্যতম জনপ্রিয় রেজোলিউশন। কেউ আবার ধূমপান ছাড়ার কথা ভাবেন। কেউ বা অফিসের কাজ আর বাড়িতে না এনে সময়মতো কাজ শেষ করার প্রতিজ্ঞা করতে চান। কারও ক্ষেত্রে আবার পরিবার বা প্রিয়জনকে আরও একটু বেশি সময় দেওয়ার বাসনাও থাকে সেই আওতায়। স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা নিয়েও নিত্যনতুন প্রতিজ্ঞা করে। কিন্তু মজার কথা, ফোর্বস হেলথ-এর একটি সমীক্ষা (২০২৩) বলছে, মাত্র ১ শতাংশ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মানুষই তার রেজোলিউশনটি বছরভর পালন করেছে! অর্থাৎ রেজোলিউশন নেওয়ার যা বহর, রেজোলিউশন ভাঙার গোপন ব্যর্থতা তার চেয়ে বহু গুণ বেশি। তবে কিছু কৌশল মেনে চললে রেজোলিউশন পালন সহজ হয়ে উঠবে।
পরিকল্পনায় জোর দিন
• প্রতিজ্ঞা হোক সরাসরি ও সুনির্দিষ্ট ছকে বাঁধা। ‘শরীরের খেয়াল রাখব’ না ভেবে স্পষ্ট করে ভেবে নিন ঠিক কী কী খেয়াল রাখতে চান। কোথায় কোথায় পরিবর্তন আনতে চান। প্রয়োজনে লিখে রাখুন।
• যে প্রতিজ্ঞা অর্জন করা সম্ভব, তেমনই প্রতিজ্ঞা করুন। যা কষ্টসাধ্য ও আপনার কাছে প্রায় অসম্ভব, এমন কোনও অলীক প্রতিজ্ঞা নেবেন না।
• ছোট ছোট পদক্ষেপে প্রতিজ্ঞাকে ভাগ করে নিন। প্রথমেই বড় লক্ষ্য স্থির না করে, ধীরে ধীরে লক্ষ্যের দিকে এগন। যেমন: হয়তো আপনি বেলা ১০টায় ঘুম থেকে ওঠেন, এবার থেকে ভোরে উঠতে চাইছেন। তাহলে প্রথমেই ১০টা থেকে একলাফে এগিয়ে ৫টায় উঠতে যাবেন না। বরং ঘুম থেকে ওঠার সময় ৩০ মিনিট করে এগন। তাহলে একদিন ৫টায় ওঠাও সম্ভব হবে ও অতটা কষ্ট হবে না।
ধারাবাহিকতা বজায়
• লক্ষ্যপূরণের জন্য সময় খুব গুরুতর। প্রতিদিনের লক্ষ্য সেদিনই পূরণ করুন। অন্যথায় লক্ষ্য জমে তা দুঃসাধ্য হবে ও লক্ষ্য পূরণে অনীহা তৈরি হবে।
• কাছের মানুষজনকেও লক্ষ্য সম্পর্কে জানান। লক্ষ্যপূরণে সফল হলে তাঁরা আপনাকে উৎসাহিত যেমন করতে পারবেন, তেমনই লক্ষ্যচ্যুত হলেও সচেতন করার কাজটিও তাঁরা সারতে পারবেন। এমনকী লক্ষ্য পূরণ হলে নিজেও নিজেকে পুরষ্কৃত করুন। এতে মনও ভালো থাকবে।
কৌশল অবলম্বন
• একটিই রেজোলিউশন নিন। সেটি আয়ত্তে এসে গেলে তারপর অন্য রেজোলিউশনে মন দিন। অতিরিক্ত লক্ষ্য নির্ধারণ করলে ব্যর্থতার ঝুঁকি বাড়ে।
• আগের বছর কী কী ভুলের কারণে প্রতিজ্ঞা পালনে ব্যর্থ হয়েছিলেন, সেই ভুলগুলি মনে রাখুন ও সেগুলি থেকে শিক্ষা নিয়ে লক্ষ্যপূরণ করুন।
মনীষা মুখোপাধ্যায়