পক্ষে
পক্ষে
প্রত্যুষা শিকদার
মত প্রকাশের কোনও সীমাবদ্ধতা নেই। প্রতিটি মানুষের অধিকার রয়েছে মত প্রকাশ করার। শুধু কথা বলার মধ্যে নয়, বরং গল্পের বই, গান, চলচ্চিত্র,আঁকা ইত্যাদির মাধ্যমেও মত প্রকাশ করা হয়। মত প্রকাশের স্বাধীনতার মাধ্যমে চিন্তার স্বাধীনতা, কাজের স্বাধীনতা, বিশ্বাস-ধর্মের স্বাধীনতা বোঝা যায়। কেউ ব্যক্তিগত কোনও আক্রমণাত্মক ধারণা থেকে মত প্রকাশ করে আবার কেউ ভালো ধারণা থেকেও মত প্রকাশ করে থাকে। বর্তমানে অনেকে সামাজিক মাধ্যমে মন খুলে মত প্রকাশ করে, যেটা একপ্রকার যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমাজে পরিবর্তনে সাহায্য করে।
কলেজ ছাত্রী
মঞ্জুশ্রী মণ্ডল
স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে, অন্যায়ের প্রতিবাদে নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে মান্যতা দিতে মানুষ নিজের মুখ খোলে। কিন্তু সেই মুখ জোর করে বন্ধ করে দিলে অন্যায়, স্বেচ্ছাচারিতা বেড়েই চলবে। অরাজকতা দেখা দেবে সর্বত্র। নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছার মূল্য না পেলে মানুষ কষ্টে মরবে। তাই প্রতিটি মানুষের পরিবারে, সমাজে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যদি নিজস্ব মত, ব্যক্তিগত অভিব্যক্তি প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকে, তাহলে মানুষ স্বাধীন দেশে বাস করেও পরাধীন হয়েই থাকবে। নিজের মনের কথা খুলে বলতে পারলে সেটাই তার প্রকৃত স্বাধীনতা।
স্কুল শিক্ষিকা
দেবযানী মিত্র দত্ত
আমাদের দেশে ১৮ বছর বয়স থেকেই মত প্রকাশ করা যায়। একটা দেশের শাসন ব্যবস্থা কীরকম হবে? মানুষের স্বাধীন মতবাদের উপর ভিত্তি করেই সে ব্যাপারে একটা নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গড়ে তোলা যায়। তাই সকলের নিজস্ব মতামত থাকা উচিত। সব ব্যাপারে গুরুজনরা যদি ভাবেন, সন্তানের সব বিষয়ে নিজেদের কর্তৃত্ব চাপিয়ে দেব, তাহলে বড় বিপদ! সন্তান নিজের মত প্রকাশ করতে না পেরে ভয়ে ভয়ে থাকে। আত্মহত্যার ঘটনাও অনেক সময় ঘটে। মানুষের মন মুক্ত হয়ে, স্বাধীন হয়ে বাঁচতে চায়। কথায় আছে, যত মত তত পথ। মত অনেক, পথ একটাই। মূল্যবোধ ও ভালোবাসার উপর ভরসা করলে সব পরিবার থেকে সুস্থ মানবশিশুর জন্ম হবে।
গৃহশিক্ষিকা
সহেলি পালিত
আমাদের দেশ যে রাজতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে পরিণত হয়েছে সেটির মূল ভিত্তি হল এই মত প্রকাশের স্বাধীনতা। কোনও দেশের জনমতই স্বচ্ছ, সুন্দর সমাজ সর্বোপরি দেশ গড়ে তোলে। মত প্রকাশের স্বাধীনতার মাধ্যমে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য বজায় থাকে। আগেরকার দিনে সমাজের নীচুস্তরের মানুষ ও নারীদের মতপ্রকাশে বাধা দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে চিন্তাধারার বদলের ফলে সমাজ প্রগতিশীল হয়ে উঠেছে। তাই আমার মনে হয়, যে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই, সেখানে অন্য স্বাধীনতাগুলি ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হয়।
স্নাতকোত্তর ছাত্রী
বিপক্ষে
কৃষ্ণেন্দু বিশ্বাস
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রকৃত স্বাধীনতা নয়, এটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকারের মধ্যে একটি। ভারতীয় নাগরিকদের অন্যান্য মৌলিক অধিকার ও নির্দেশ নীতির সঙ্গে মৌলিক কর্তব্য সংবিধানে লিপিবদ্ধ রয়েছে । যখন অক্ষরে অক্ষরে প্রতিটি ভারতীয় নাগরিক অধিকারগুলো ভোগ করতে পারবেন তখনই প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন।
স্কুল শিক্ষক
শ্বেতা চ্যাটার্জি
কথা বলা, মতামত প্রকাশে স্বাধীনতা যেমন থাকবে, তেমনই সংবিধান অনুযায়ী যে’কটি স্বাধীনতার কথা আছে, আমার মনে হয় সবগুলোকেই সমান প্রাধান্য দেওয়া উচিত। বাকস্বাধীনতাই প্রকৃত স্বাধীনতা হতে পারে না। সংবিধানের প্রত্যেকটি বক্তব্য, নীতি-নিয়ম একে অন্যের সঙ্গে জড়িত। একটি না থাকলে অপরটি গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে। হ্যাঁ, বাক স্বাধীনতা প্রত্যেকটি মানুষের ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় তবে আরও পাঁচটি মৌলিক অধিকারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলোই স্বাধীনতার মূল মন্ত্র। সেগুলোতে গুরুত্ব না দিলে এগিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়বে।
ছাত্রী
কৌশিকী চ্যাটার্জি
মত প্রকাশের স্বাধীনতা আমাদের ভারতীয় সংবিধানে উল্লেখ থাকলেও তা থেকে হিংসা, বিভেদ ছড়ানোর স্বাধীনতা আমাদের নেই। এক গণতান্ত্রিক দেশে একে অন্যের সমালোচনার পাশাপাশি একে অন্যার প্রতি সম্মান করাটাও খুব দরকার। এখনকার দিনে দাঁড়িয়ে নিজের মত প্রকাশের মাধ্যমে অন্যকে অপমান করাটা যেন এক নিয়ম হয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক সব ক্ষেত্রেই মত প্রকাশের স্বাধীনতার অপব্যবহার করা হচ্ছে। সংবিধানের ধারা ২১ অনুযায়ী একজন মানুষের মর্যাদা সহকারে বাঁচার আধিকারও আছে। তাই শুধুমাত্র মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রকৃত স্বাধীনতা হতে পারে না যদি তা অন্যের মর্যাদা খর্ব করে।
স্নাতকোত্তর ছাত্রী
সৈকত কর্মকার
মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা কখনই প্রকৃত স্বাধীনতা নয়! ‘স্বাধীনতা’ কথাটার ব্যাপ্তি তথা বিস্তৃতি অপরিসীম! বীর শহিদদের আত্মবলিদানের বিনিময়ে ১৯৪৭ সালে অর্জিত স্বাধীনতার পর্ব গৌরবময় হলেও, স্বাধীনতা পরবর্তী যুগে নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে আখেরে জনগণ যেন পুনরায় পরাধীনতার শৃঙ্খলেই আবদ্ধ হয়ে পড়ছে! স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকেই এমন হয়ে আসছে। একদিকে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েও দেশের সরকার তা মানছে না। একশো দিনের কাজের টাকা বন্ধ করে দিয়ে গরিব মানুষকে শোষণ করা হচ্ছে আবার অন্যদিকে বেকারত্বও বাড়ছে। এটাকে কি আদৌ স্বাধীনতা বলা চলে? এও তো একপ্রকারের দাসত্ববন্ধন! খাঁচাবন্দি পরাধীন তোতার দশা হয়েছে আমজনতার!
গৃহশিক্ষক