Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

বইয়ে নয় ছোটদের কাছে গোয়েন্দা গল্প টিকে আছে সিনেমায়

বর্তমান যুগে শিশুদের মধ্যে গোয়েন্দা গল্পের জনপ্রিয়তা মূলত সিনেমার মাধ্যমেই টিকে আছে। আধুনিক শিশুদের আগ্রহ চিত্র, শব্দ ও গতিশীলতার দিকে বেশি, যা সিনেমা সহজেই দেয়।

বইয়ে নয় ছোটদের কাছে গোয়েন্দা গল্প টিকে আছে সিনেমায়
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

পক্ষে

Advertisement

সায়ন্তন বিশ্বাস
বর্তমান যুগে শিশুদের মধ্যে গোয়েন্দা গল্পের জনপ্রিয়তা মূলত সিনেমার মাধ্যমেই টিকে আছে। আধুনিক শিশুদের আগ্রহ চিত্র, শব্দ ও গতিশীলতার দিকে বেশি, যা সিনেমা সহজেই দেয়। তাই তারা বই পড়ার চেয়ে পর্দায় গল্প দেখতে বেশি পছন্দ করে। সিনেমা তাদের তাৎক্ষণিক আনন্দ ও রোমাঞ্চ দেয়, কিন্তু বই পড়তে ধৈর্য প্রয়োজন, যা আজকের অনেক শিশুর মধ্যে কম।
তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী

শ্বেতা চট্টোপাধ্যায়
ছোট থেকে গোয়েন্দা গল্প, উপন্যাস বইতেই পড়েছি। সেই গল্পগুলোকে নিজের চোখে দেখার জন্য সিনেমাগুলো অল্প হলেও দেখতাম। এখনকার দিনে গোয়েন্দা গল্প ছোটরা বইতে যত না পড়ে, তার থেকে অনেক বেশি সিনেমায় তার বাস্তব রূপ দেখতেই পছন্দ করে। তাতে তাদের কাছে চরিত্রগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
স্নাতকোত্তর পড়ুয়া 

মঞ্জুশ্রী মণ্ডল
বর্তমান ডিজিটাল যুগে কেউই এখন বই পড়তে পছন্দ করে না। ছোটরা বড়দের দেখে শেখে। বড়রা বই না পড়ে স্মার্টফোনে আসক্ত। বাচ্চারাও তাই। বাচ্চারা গোয়েন্দা গল্প না পড়ে সিনেমার চলন্ত ছবিতে বেশি মনোনিবেশ করে। পড়তে যেহেতু ভালো লাগে না, তাই সিনেমাকেই আপন করেছে। ফলে গোয়েন্দা গল্প টিকে আছে বইয়ে নয়, সিনেমায়।
স্কুলশিক্ষিকা

শোভন সেন
মূলত শহরকেন্দ্রিক মাল্টিপ্লেক্সগুলিতে এই গোয়েন্দা গল্প ভিত্তিক চলচিত্রগুলির রমরমা। সেইসব ফিল্মের দর্শকরা আবার আর্থিকভাবে সম্পন্ন হওয়ায় ইংরেজি মাধ্যমের প্রাইভেট স্কুলেই পড়াশোনা করেছেন। তাই ফেলুদা, ব্যোমকেশের সত্যানুসন্ধানের থ্রিল তাঁরা মূলত সিনে স্ক্রিনেই উপভোগ করেন। সিনেমার প্রচারও বেশি। বড়দের বই কিনে দেওয়ার অভ্যাসও কি তেমন বজায় আছে?
শিক্ষক

বিপক্ষে

 কৃষ্ণেন্দু বিশ্বাস
বইয়ের মতো বিশ্বস্ত বন্ধু পৃথিবীতে আর কিছু নেই। ছোটবেলায় বই পড়ার অভ্যাস যদি হয় গোয়েন্দা গল্পে তবে তো কথাই নেই! ছোটদের নরম মনের আয়নায় গোয়েন্দা গল্প সাজিয়ে তোলে কল্পনার জগৎ। সেই অনুভব সিনেমায় কখনও হয় না। যারা বই পড়ে অনাবিল আনন্দ পেয়েছে, তারাই বলতে পারবে বইয়ের আসল স্বাদ ও গন্ধ। তাই ছোটদের গোয়েন্দা গল্পের টান সিনেমায় কখনওই নয়, বইয়ের পাতায় থাকবে চিরকাল। 
স্কুল শিক্ষক

 শৌনক ঠাকুর
গোয়েন্দা সিনেমা ছোটদের মনের ক্ষুধা পূরণে ব্যর্থ। এই শূণ্যস্থান পূরণে সক্ষম একমাত্র বই। একই গোয়েন্দার অনেকগুলো গল্প পড়ার ফলে উক্ত গোয়েন্দার কাজকর্ম, সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই, অপরাধী চিহ্নিতকরণ সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি হয়। তফাত করতে পারে দুই গোয়েন্দার চিন্তা, চেতনার মধ্যে। এই ধারাবাহিকতা ছবিতে নেই। শিশুমনের বিকাশের চারটি পর্যায়ে মনস্তত্ত্বের পরিবর্তন ঘটে। পড়ার ফলে শিশু নিজের মতো গল্পটিকে ভাবে। ছবিতে পরিচালকের চোখেই তাকে দেখতে হয়‌। 
সহশিক্ষক

 সৈয়দ সাদিক ইকবাল
ছোটদের জন্য বাংলা সাহিত্যে বিপুল সম্ভার সাজানো আছে। সেখানে কল্পবিজ্ঞান, গোয়েন্দা থেকে শুরু করে আরও নানা বিষয় উন্মুক্ত হয়েছে। সাহিত্যরস কখনও সিনেমাতে সর্বাত্মকভাবে প্রভাব ফেলতে পারে না। তাছাড়া সেই অর্থে ছোটদের জন্য তৈরি সিনেমা এখনও পর্যন্ত হাতেগোনা। শিশু বয়স থেকে বই পড়া শুরু। কেবলমাত্র ক্লাসের বই নয়, সেইসঙ্গে ছোটদের উপযোগী নানা ধরনের বই ছোটরা পড়ে। এখানে অভিভাবকদের গুরুত্ব অপরিসীম। আপনি আপনার সন্তানের জন্য উপযোগী বই তাদের হাতে তুলে দিন। তাহলে পরিবর্তন লক্ষ করতে পারবেন স্বচক্ষে।
রাজ্য সরকারি কর্মচারী

 অভিষিক্তা পাল
আমাদের যাদের রোববার রেডিওতে গোয়েন্দা গল্পের পডকাস্ট না শুনলে দুপুরের ভাত হজম হয় না, তারা অন্তত স্বীকার করব না যে, নতুন প্রজন্মের কাছে গোয়েন্দা গল্প টিকে আছে শুধুমাত্র সিনেমায়। তাহলে বছর-বছর কলকাতা বইমেলায় এত কচিকাঁচা বাবা-মায়ের হাত ধরে ব্যাগভর্তি বই কেনে কীসের? না, ফেলুদা-ব্যোমকেশ-শার্লক হোমস-আগাথা ক্রিস্টি-মিতিন মাসির জনপ্রিয়তা এখনও কমে যায়নি। বরং গোয়েন্দা বইয়ের আরও নতুন নতুন সম্ভার সাজিয়ে দিচ্ছেন বহু লেখক। 
স্নাতকোত্তর ছাত্রী

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ