Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঙালি ভোটারের ঠিকানা কেড়ে নিলে বিজেপি মুছে যাবে: মমতা

আগামী বছরই বিধানসভা ভোট বাংলায়। তার আগে গেরুয়া শাসিত রাজ্যগুলিতে বেছে বেছে বাংলাভাষীদের উপর নির্যাতন, নিপীড়ন শুরু হয়েছে।

বাঙালি ভোটারের ঠিকানা কেড়ে নিলে বিজেপি মুছে যাবে: মমতা
  • ২৯ জুলাই, ২০২৫ ১৫:০৭
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, বোলপুর: আগামী বছরই বিধানসভা ভোট বাংলায়। তার আগে গেরুয়া শাসিত রাজ্যগুলিতে বেছে বেছে বাংলাভাষীদের উপর নির্যাতন, নিপীড়ন শুরু হয়েছে। মহিলা, শিশু কাউকে রেয়াত করা হচ্ছে না। বাংলায় কথা বললেই সেঁটে দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশি কিংবা রোহিঙ্গা তকমা। এমনকী গোপনে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করে দেওয়ারও খবর আসছে। পাশাপাশি চলছে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নামে বাংলার ন্যায্য ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার খেলা! একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই বিজেপির এই সমস্ত চক্রান্তের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডাক দিয়েছিলেন ‘ভাষা আন্দোলনে’র। সোমবার সেই ডাকে সাড়া দিয়েই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুণ্যভূমি বোলপুরে পথে নামলেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। মমতার সঙ্গে পা মিলিয়ে মোদি সরকারের বাংলা বিদ্বেষী মনোভাবের প্রতিবাদ জানালেন। বিপুল জনসমর্থনকে কুর্নিশ জানিয়েই বাংলার অগ্নিকন্যার হুঁশিয়ারি, পশ্চিমবঙ্গের একজন ভোটারেরও ঠিকানা কেড়ে নিলে কার্যত মুছে যাবে মোদি-শাহের দল। আর সেকাজে কোনও বন্দুক-গুলি লাগবে না।

Advertisement

তৃণমূল সুপ্রিমো আরও বলেন, ‘আমি কোনও ভাষার বিরুদ্ধে নই, আমি বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে। শুধু বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি বলে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে? এই ষড়যন্ত্র আমরা রুখে দেব।’ সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বিজেপির এনআরসির খেলায় মেতে ওঠার চক্রান্ত ফাঁস করে দিয়েছেন তিনি। গর্জে উঠেছেন, ‘বিজেপির এই নীতির জন্যই দেশ ভেঙে যাবে। আপনারা অচিরেই শূন্য থেকে মহাশূন্যে মিলিয়ে যাবেন। মনে রাখবেন, বাংলার একটা মানুষেরও ঠিকানা বাদ পড়লে তোমাদেরও আর কোনও ঠিকানা থাকবে না!’ 
হাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি নিয়ে এদিন মিছিলে হাঁটেন মমতা। বোলপুরের ট্যুরিস্ট লজ মোড় থেকে জামবনী মোড় পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে ছিল জনসুনামি। মিছিলে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কারও হাতে বাংলার মনীষীদের ছবি। কারও মাথার ফেট্টিতে লেখা—‘আমি বাঙালি, বাংলাদেশি নই’। মিছিল শেষে গেরুয়া শিবির এবং নির্বাচন কমিশনের যৌথ চক্রান্ত ফাঁস করেন নেত্রী। বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নাম না করে বলেন, ‘একজন সমবায় মন্ত্রকের মন্ত্রীর (অমিত শাহ) প্রধান সচিব ছিল। এখন সে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের থেকে পরামর্শ নিচ্ছে আর ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে ফেলার চক্রান্ত করছে, যাতে তার বন্ধু জেতে।’ তবে এসবে যে বিজেপির কোনও ফায়দা হবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা। জানিয়েছেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৯ পর্যন্ত টিকবে না!
পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিনরাজ্য থেকে বাংলায় ফিরে আসার অনুরোধও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আরও ঘোষণা, এর জন্য প্রয়োজনে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হবে। এরাজ্যে ওই শ্রমিকদের কাজ দিতে চালু হবে বিশেষ স্কিমও।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ