উপাসনা পদ্ধতির নিয়ম অনুযায়ী নিশ্চয় তুমি জপধ্যান করে যাচ্ছো, এছাড়াও অন্য সময়ে মনে মনে অবিরাম ইষ্টমন্ত্রের জপ করার অভ্যাস করো। সঙ্গে সঙ্গে এটাও নজর রাখো কীভাবে তোমার মন জপ করা ছেড়ে অন্য চিন্তায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে, কিন্তু তাকে বাধা দিও না, সে যা চায় ভাবতে দাও, শুধু নজর রাখো—যে সে কী ধরনের চিন্তাভাবনা করছে, তারপর দেখো সে কীভাবে জপ করতে বসে পড়বে, মুহূর্তের জন্য সে বিপথে যাবে, কিন্তু পরমুহূর্তেই সে ফিরে এসে জপে বসে পড়বে। এইভাবে তুমি মনের স্বভাবের সঙ্গে পরিচিত হতে থাকবে। একবার যখন মনের ভালো দিক এবং মন্দ দিক বুঝতে পারবে, তখন তোমার কামনা, বাসনা, ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা—সব কিছু তোমার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে। কিন্তু এটাও বুঝতে পারবে কী কী জিনিসের উপর তোমার ঘৃণা, কোন্ কোন্ কথায় তুমি রাগ করো, কিসে খুশি হও, কোন্ কথায় তুমি দুর্বল হয়ে পড়ো। একবার যদি নিজের দুর্বলতার কথা ভালোভাবে বুঝতে পার, তবে এই দুনিয়ায় কেউ তোমার শোষণ করতে পারবে না, কেউ তোমার দুর্ব্যবহার করতে পারবে না, এমন কি তোমার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তোমাকে দিয়ে কোনো খারাপ কাজও করাতে পারবে না। তোমার পরীক্ষার পর আমার কথা অনুযায়ী চলো এবং এক মাস পর পুনরায় আমায় লেখো, এই চিঠির একটি ফটোকপি সঙ্গে পাঠাও। কিন্তু এটাকে তোমার মা বাবা ছাড়া কাউকে পড়তে দিও না। আমি তোমার জন্য নিরন্তর প্রভুকে প্রার্থনা করি।
তোমার মন দিন দিন কেন ক্ষুব্ধ হচ্ছে? তুমি বুঝতে পারো না কেন যে শ্রীশ্রীঠাকুর তোমার মনকে সম্পূর্ণভাবে দখল করে নিয়েছেন, তাই তুমি তাঁরই যন্ত্র হয়ে তোমার সকল কাজ কর্ম করে চলেছো। যন্ত্রের কাজ তো গোলামের মতো হয়ে থাকে। তার কী নিজস্ব কোন মন আছে যে সে তার কর্মের সাথে জড়িত হবে? যন্ত্রের মতোই সব কাজ তোমায় করে যেতে হবে, আর তাই তুমি করে যাচ্ছো, এরজন্য ক্ষোভ করার কী আছে? প্রভুই তোমার একমাত্র অবলম্বন। তাই তাঁকেই দিবারাত্র প্রার্থনা করো, যাতে তুমি তোমার সন্তানদের সুশিক্ষিত করে তাদেরকে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করতে পারো। ওনার উপর ভরসা রাখো।
আমাদের প্রভুর সঙ্গে, জননী সারদাদেবীর সঙ্গে ওনাদেরকেই নিজের জীবনের অবলম্বন বানিয়ে চলো, এটাই আমার ওনাদের নিকট প্রার্থনা।
শ্রীশ্রীঠাকুরের জীবনের আরও অধ্যয়ন করলে তুমি বুঝতে পারবে যে স্বামী বিবেকানন্দ মহারাজ বলেছিলেন যে, যেদিন ওনার জন্ম হয়েছে সেদিন থেকে সত্যযুগ শুরু হয়েছে। এটার অর্থ হল যে, আমাদের শাস্ত্রে সত্যযুগের মানুষের যে চিত্র দেখা যায় শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেবের চরিত্রও ঠিক তেমনই ছিল, আর যেমন তুমি Camera থেকে যখন কোন ছবি তোলো, তখন Negative একটাই হয়, কিন্তু Prints হাজারটা তৈরী করা যেতে পারে। ঠিক সেইভাবে শ্রীশ্রীঠাকুরের যখন আবির্ভাব হল তখন তোমার, আমার, জগৎ-ব্রহ্মাণ্ডের প্রত্যেক ব্যক্তিই যেন তার শুদ্ধতম সত্তার সঙ্গে সাক্ষাৎকার পেল, যাকে ব্রহ্মকুণ্ডলিনীর জাগরণ বলা হয়ে থাকে।
‘মধু সঞ্চয়ন’ (স্বামী গহনানন্দ উক্তি সংগ্রহ) থেকে