নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: জেলায় বিজেপিতে ‘শুদ্ধিকরণ’ দরকার। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের জলপাইগুড়ি সফরের আগে এমনই দাবি উঠল গেরুয়া শিবিরে। দলের নেতার লাথি কাণ্ড থেকে নেত্রীর মদ্যপানের ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় এমনিতেই অস্বস্তিতে জেলা বিজেপি, তার উপর জলপাইগুড়িতে বিক্ষুব্ধ কাঁটায় বিদ্ধ পদ্ম শিবির। দলের অন্দরে কী চলছে, তা তুলে ধরতে স্থানীয় সাংসদ জয়ন্ত রায়, দলের জেলা সভাপতি শ্যামল রায়ের পাশাপাশি জলপাইগুড়ি থেকে বিজেপি বিক্ষুব্ধদের চিঠি ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছে নয়া রাজ্য সভাপতির কাছে। ওই চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, জেলা কমিটি গঠনের আগে যেন ২০১৪ সাল থেকে যাঁরা জেলায় দলের নেতৃত্বে ছিলেন, তাঁদের সবার সঙ্গে আলোচনা করা হয়। এমন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়, যাঁর দায়িত্ববোধ নেই। এই পরিস্থিতিতে কাল, মঙ্গলবার জলপাইগুড়িতে এসে শমীক কী বার্তা দেন, সেদিকে তাকিয়ে কর্মীরা।
বিজেপি সূত্রে খবর, ১৫ জুলাই ময়নাগুড়িতে একটি ভবনে দলের রাজ্য সভাপতির উপস্থিতিতে ওই মিটিং হতে পারে। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি শ্যামল রায় এদিন বলেন, রাজ্য সভাপতি ১৫ জুলাই আসছেন। তাঁর উপস্থিতিতে সাংগঠনিক কর্মসূচি রয়েছে। এর বাইরে কিছু বলব না।
এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস নেতার গাড়িতে বসে মদ্যপানের ঘটনায় অভিযুক্ত বিজেপি নেত্রীকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও দল তাঁর পাশেই আছে বলে রবিবার দাবি করেছেন তিনি। এদিন ফোনে যোগাযোগ করা হলে বিজেপির মহিলা মোর্চার ওই নেত্রী বলেন, গোটাটাই সাজানো। সেটা দলও জানে। তাই দায়িত্ব থেকে সরানো হলেও দল পাশেই আছে। দলের জেলা নেতৃত্ব এ ব্যাপারে আমাকে আশ্বস্ত করেছে।
ওই নেত্রী এমনটা দাবি করলেও বিজেপির রাজ্য মহিলা মোর্চার কার্যনির্বাহী সমিতির সদস্য টিনা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ঘটনাটি অবশ্যই নিন্দনীয়। দল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছে। মহিলা মোর্চার দায়িত্বে এখন ‘স্বচ্ছ’ ইমেজের কাউকে নিয়ে আসা দরকার।
বিজেপির প্রাক্তন জেলা সহ সভাপতি তথা দলে বিক্ষুব্ধ নেতা হিসেবে পরিচিত অলোক চক্রবর্তী বলেন, সম্প্রতি জলপাইগুড়িতে দলের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকে প্রকাশ্যে লাথি মারার অভিযোগ ওঠে দলের প্রাক্তন এক জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে। এরপর দলের মহিলা মোর্চার নেত্রীর বিরুদ্ধে রাতের অন্ধকারে এক তৃণমূল নেতার গাড়িতে বসে মদ্যপানের ভিডিও ভাইরাল হল। পরপর এমন ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। রাজ্য নেতৃত্বের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করা উচিত।
অলোক যোগ করেন, আমার বক্তব্য জানিয়ে দলের জেলা সভাপতি, রাজ্য সভাপতি এবং জলপাইগুড়ির সাংসদকে চিঠি দিয়েছি। জেলায় দলে শুদ্ধিকরণ প্রয়োজন।