Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রধান শিক্ষিকাকে ‘কান ধরে ওঠবস’ কাণ্ডে সৈকতের বিরুদ্ধে এফআইআর

প্রধান শিক্ষিকাকে ‘কান ধরে ওঠবস’ কাণ্ডে জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হল।

প্রধান শিক্ষিকাকে ‘কান ধরে ওঠবস’ কাণ্ডে সৈকতের বিরুদ্ধে এফআইআর
  • ২৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: প্রধান শিক্ষিকাকে ‘কান ধরে ওঠবস’ কাণ্ডে জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হল। জলপাইগুড়ি সুনীতিবালা সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুতপা দাস মঙ্গলবার কোতোয়ালি থানায় ওই অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

Advertisement

গত নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সামনে আসে। যাতে দাবি করা হয়, স্কুলের পরিচালন কমিটির তৎকালীন সভাপতি সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের কথা না শোনায় বিদ্যালয়ের মধ্যে দরজা বন্ধ করে তিনি প্রধান শিক্ষিকাকে কান ধরে ওঠবস করাতে বাধ্য করেন। যদিও ওই ফুটেজের সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’। তবে সেসময় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী ওই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিষয়টি তুলে ধরেন। ফলে ঘটনাটি নিয়ে যাতে এবার উপযুক্ত তদন্ত হয়, সেই আর্জি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে মেইল করেছেন জলপাইগুড়ির সুনীতিবালা সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অমরনাথ কে বলেন, দায়ের হওয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত হবে। জলপাইগুড়ির বিজেপি বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারীর মন্তব্য, আইন আইনের পথে চলবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। 
এদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের হওয়া নিয়ে সৈকত অবশ্য জানিয়েছেন, ভিত্তিহীন ফুটেজ। তাছাড়া যে ফুটেজ নিয়ে বলা হচ্ছে, প্রধান শিক্ষিকার কথামতো ঘটনাটি ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের। অথচ সেই ফুটেজ সামনে আনা হয়, গত নভেম্বরে জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান হিসাবে আমার শপথ নেওয়ার কয়েকদিন আগে। তারপর বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষিকা আদালতেও যান। এখন এতদিন পর থানায় এফআইআর করা হয়েছে বলে খবর পেলাম। আসলে সবটাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। 
প্রধান শিক্ষিকার অবশ্য বক্তব্য, ওই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আসল না নকল, তা পরীক্ষা হলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। আমি চাই, পুলিশ-প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে ওই ফুটেজ পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা করুক। তাঁর দাবি, ঘটনাটি শিক্ষাদপ্তরে জানিয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় বাধ্য হয়ে আমি আদালতের দ্বারস্থ হই। সেসময় শুভেন্দুবাবু সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছিলেন। এখন তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সেকারণে উপযুক্ত তদন্তের আশায় এনিয়ে থানায় এফআইআর করেছি। মুখ্যমন্ত্রীকেও মেইল করেছি। 
প্রধান শিক্ষিকার অভিযোগ, স্কুলের বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করতেন পরিচালন কমিটির সভাপতি। এমনকী পঞ্চম শ্রেণিতে ১৫০ জন বাড়তি ছাত্রী ভর্তি নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এসব মানতে না চাওয়ায় তাঁকে ‘শাস্তি’র মুখে পড়তে হয়। থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে প্রধান শিক্ষিকার দাবি, তাঁর নির্দেশ অগ্রাহ্য করায় কান ধরে ওঠবসের হুমকি দেন স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি। বিরোধিতা করলে ফল আরও খারাপ হবে বলে শাসান। ফলে ‘কান ধরে ওঠবস’ করতে বাধ্য হন তিনি। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতিকে থামানোর জন্য কার্যত তাঁর পা ধরে অনুরোধ করেন। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। 
যদিও সবটাই ভিত্তিহীন অভিযোগ বলে দাবি সৈকতের। তাঁর পালটা হুঁশিয়ারি, জলপাইগুড়ি সুনীতিবালা সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আইনের মাধ্যমে সেসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করে বেরিয়ে আসছেন প্রধান শিক্ষিকা।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ