ব্রতীন দাস, মালদহ: ‘ঘরের ছেলে’ কৃষ্ণেন্দু চৌধুরীর জন্য দরজা খোলা রাখছে কংগ্রেস। প্রয়াত গনি খান চৌধুরীর একসময়ের বিশ্বস্ত ‘সহচর’ বলে পরিচিত কৃষ্ণেন্দু দু’দিন আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আর তৃণমূলের সঙ্গে নেই। তাঁর ওই ঘোষণার পর কৃষ্ণেন্দুর জন্য দরজা খোলা রাখার বার্তা দিয়েছে কংগ্রেস। যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে মালদহের রাজনৈতিক মহলে। তবে কংগ্রেস দরজা খুলে রাখার বার্তা দিলেও ইংলিশবাজারে জল্পনা, তৃণমূল ছেড়ে কি এবার কৃষ্ণেন্দু বিজেপিতে যোগ দেবেন? যদিও যাঁকে ঘিরে এত চর্চা, সেই কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী কিন্তু সব পথ খোলা রাখতে চাইছেন। প্রশ্নের উত্তরে তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, রাজনীতিতে কোনো কিছুই খারাপ নয়। তবে আমি কী করব, তা সময় হলেই দেখতে পাবেন মালদহের মানুষ।
দক্ষিণ মালদহের সাংসদ তথা জেলা কংগ্রেস সভাপতি ঈশা খান চৌধুরী বলেন, কংগ্রেসকে শক্তিশালী করতে আমরা যোগদানের আহ্বান জানাচ্ছি। কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী যদি কংগ্রেসে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন, সেক্ষেত্রে বিষয়টি নিশ্চয়ই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
প্রদেশ কংগ্রেসের অ্যাডভাইসরি কমিটির সদস্য তথা প্রাক্তন সাংসদ মৌসম বেনজির নূরের বক্তব্য, মালদহ জেলায় শীঘ্রই অনেকে কংগ্রেসে যোগদান করবেন। সময় হলে দেখতে পাবেন। সাধারণ কর্মী থেকে সম্মানীয় কোনো ব্যক্তি বা অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ কংগ্রেসে যোগ দিতে আবেদন জানাতে পারেন। সেক্ষেত্রে জেলা কংগ্রেসের পাশাপাশি প্রদেশ কংগ্রেস খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে। কৃষ্ণেন্দুবাবু যদি কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন, নিশ্চয় দলের জেলা ও প্রদেশ নেতৃত্ব বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।
কংগ্রেসের তরফে এমন বার্তা পাওয়ার পরও অবশ্য নিজের পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এখনই কিছু স্পষ্ট করতে নারাজ কৃষ্ণেন্দু। তাঁর মন্তব্য, এটুকু বলতে পারি, আমি তৃণমূল করছি না। তবে আগামী দিনে কী করব, সেটা সময় হলেই দেখতে পাবেন ইংলিশবাজার তথা মালদহের মানুষ। ইংলিশবাজারে কৃষ্ণেন্দু যেমন নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরে ধোঁয়াশা তৈরি করেছেন, ঠিক তেমনই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষ আগামী দিনে কোন দলে নাম লেখাতে চলেছেন, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে জল্পনা। নীহার অবশ্য বলছেন, শরীর ভালো নয়। বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছি। এখন রাজনীতি নিয়ে ভাবছি না। যদিও ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কৃষ্ণেন্দু কিংবা নীহার জল মাপার চেষ্টা করছেন। সময় সুযোগ বুঝে কোনো এক শিবিরে ভিড়বেন।
এদিকে, মৌসম নয়, জেলা কংগ্রেস সভাপতি হিসাবে ঈশা খান চৌধুরীকে সামনে রেখে মালদহে ঘুরে দাঁড়াতে চান কংগ্রেস কর্মীদের বড় অংশ। মৌসম নিজেও জেলা কংগ্রেস সভানেত্রীর পদে আগ্রহী নন। বলেন, ঈশা খান চৌধুরীই আমাদের চয়েস। আমরা চাই, জেলা কংগ্রেস সভাপতি হিসাবে তিনিই থাকুন।