সংবাদদাতা, ডোমকল: প্রায় হাফ দশক পর অনুষ্ঠিত হল সমবায় নির্বাচন। রানিনগরের কালীনগর সমবায় সমিতির সেই নির্বাচনে কংগ্রেসকে হারিয়ে ন’টির মধ্যে আটটি আসনেই জয় ছিনিয়ে নিল প্রগতিশীল প্রার্থীরা। তৃণমূলের দাবি, সিপিএমের সঙ্গে করা জোটের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘প্রগতিশীল জোট’। যদিও সিপিএমের তরফে জোটের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক শোরগোল ছড়িয়েছে এলাকায়।
রানিনগরের কালীনগর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির মোট ভোটার ৭০৯। ন’টি আসনের মধ্যে একটি তফসিলি জাতি-উপজাতির জন্য এবং দু’টি মহিলা প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। বাকি ছ’টি আসন ছিল সাধারণ প্রার্থীদের জন্য। তৃণমূলের দাবি, তাদের ৫ জন ও সিপিএমের ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তফসিলি জাতি-উপজাতি আসনে অবশ্য তারা প্রার্থী দিতে পারেনি। যদিও বামেদের দাবি, আটটি আসনেই তাঁরা এককভাবে লড়াই করেছে। তৃণমূল কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করেনি।
রবিবার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দপ্তরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে গণনা শেষে ফল প্রকাশ হতেই দেখা যায়, ন’টি আসনের মধ্যে আটটিতেই জয়ী হয়েছেন ‘প্রগতিশীল’ প্রার্থীরা। আর তফসিলি জাতি-উপজাতি সংরক্ষিত আসনটিতে তাঁরা প্রার্থী দিতে না পারায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থী।
ফলাফলের বিষয়টি জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির ফকির বলেন, হ্যাঁ, সিপিএমের সঙ্গে আমাদের জোট হয়েছিল। শাহ আলমের কংগ্রেসকে আটকাতে আমরা মানুষের স্বার্থে জোট করি। জোট করেই এলাকায় প্রচার করেছি। মোট ৮ আসনে আমরা মিলিতভাবে প্রার্থী দিয়েছিলাম। তার মধ্যে ৩ আসনে সিপিএম ও বাকি ৫ আসনে আমাদের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল।
যদিও সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জামাল হোসেন বলেন, কোনো জোট হয়নি। তৃণমূল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করেনি। আমরা আটটি আসনের আটটিতেই প্রার্থী দিয়েছিলাম। এবার তার মধ্যে কেউ তৃণমূল সমর্থক থাকতেই পারে।
রানিনগর ২ ব্লক কংগ্রেস সভাপতি মমতাজ বেগম হীরা বলেন, ওখানে কংগ্রেসকে হারানোর জন্যই বাম ও তৃণমূল জোট করে লড়াই করেছে। তবে হ্যাঁ এটাও বলে রাখার দরকার কংগ্রেসের হয়ে যাঁরা ওই নির্বাচনে কাজ করেছেন, তাঁরা কেউ কংগ্রেসের আসল লোক নন। সমস্ত নেতৃত্বকে সঙ্গে না নিয়ে লড়াই করার ফলেই এই ধরনের ফলাফল হয়েছে।