সংবাদদাতা, নাগরাকাটা ও নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দিন দশেক আগে পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে নমিতা হাঁসদা নামে এক বিএলওর ব্রেন স্ট্রোকে মৃত্যু হয়। এসআইআরের কাজের চাপেই তাঁর এই পরিণতি বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পর বিএলওরা কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, এসআইআরের কাজ চলাকালীন কোনও বিএলওর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবার-পরিজনের পাশে থাকার জন্য কমিশনের কী ভাবনা রয়েছে? তাঁদের জানানো হয়েছিল, দিল্লি থেকে এ সংক্রান্ত গাইডলাইন চাওয়া হয়েছে। সেই গাইডলাইনের এখনও দেখা নেই। এর মধ্যেই আত্মঘাতী হলেন এক মহিলা বিএলও। তিনি মালবাজারের রাঙামাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঙামাটি চা বাগানের ১০১ নম্বর বুথের বিএলও। নাম শান্তিমুনি ওরাওঁ (এক্কা)। এই কাজ থেকে অব্যাহতি চেয়ে তিনি বিডিও অফিসের দ্বারস্থও হয়েছিলেন। কিন্তু সুরাহা মেলেনি। অবশেষে নিজের বাড়িতে গলায় ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করলেন ৫১ বছর বয়সি ওই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। বুধবার ভোরে বাড়ির উঠোনে একটি বাঁশের মাচায় তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের লোকজন। তাঁর স্বামী সুকু এক্কা ও ছেলে ডি’সুজা এক্কা এই মৃত্যুর জন্য এসআইআরের কাজের অতিরিক্ত চাপকেই দায়ী করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে শোকজ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন, ‘আবারও আমরা জলপাইগুড়ির মালবাজারের একজন বুথ লেভেল অফিসারকে হারালাম। এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকে ২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। কিছু লোক ভয় ও অনিশ্চয়তার কারণে, অন্যরা অতিরিক্ত চাপের কারণে।’ এদিনই ঘটনাস্থলে আসেন রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বুলুচিক বরাইক। তিনি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
শান্তিমুনির স্বামী সুকু এক্কা বলেন, ‘প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৪টায় ঘুম থেকে উঠে জিশুর কাছে প্রার্থনা করে রান্নাঘরে যেত। আর আজ কী করে ফেলল!’ তাঁর দাবি, এসআইআর ফর্ম বাংলায় লেখা থাকায় হিন্দিভাষী শান্তিমুনির বুঝতে সমস্যা হচ্ছিল। প্রতিদিন বাড়ি এসে কান্নাকাটি করতেন। ভোটারদের প্রশ্নেও জেরবার হচ্ছিলেন। ছেলে ডি’সুজা এক্কা বলেন, ‘মা যে এসআইআরের কাজ নিয়ে চাপে ছিলেন, তা কথাবার্তাতেই বুঝেছিলাম। এদিন বাবার চিৎকারে ঘুম ভাঙে। উঠে দেখি, মা’র এই অবস্থা।’ জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার খণ্ডবাহালে উমেশ গণপত জানিয়েছেন, শান্তিমুনি ওরাওঁ (এক্কা) নামে এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, যিনি বিএলওর কাজে যুক্ত ছিলেন, বুধবার সকালে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, এই ঘটনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের রিপোর্ট তলব করা হবে।



