আজও অটুট ঐতিহ্য, সম্প্রীতির অনন্য নজির চাঁচল রাজবাড়িতে
  • ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: বাঙালিদের শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। পাঁচ দিনের আনন্দ সেরে গতকাল উমা নিজের বাড়ি ফিরেছে। আর সেই বিদায়বেলায়  মালদহের চাঁচল রাজবাড়িতে দেখা গেল অনন্য এক নজির। প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় আবেগে উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা হলেন হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ।  

Advertisement

চাঁচলের পাহাড়পুরে ৩৭৫ বছর ধরে মা দুর্গা পূজিতা হয়ে আসছেন দেবী চণ্ডী রূপে। যা চাঁচলবাসীর কাছে রাজবাড়ির পুজো হিসেবে পরিচিত। পুরনো নিয়ম মেনে আজও মহাসপ্তমীর সকালে চাঁচল রাজবাড়ি থেকে দেবী চণ্ডীকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে পাহাড়পুর চণ্ডী মন্ডপে নিয়ে যাওয়া হয়। সপ্তমীতে পাহাড়পুর চণ্ডী মণ্ডপে দেবীকে অধিষ্ঠিত করা হয়। তারপর নিয়ম মেনে তিনদিন পুজোপাঠের পর দশমীতে দেবীর নিরঞ্জন হয়। তাই এই নিরঞ্জন পর্ব ঘিরে বুধবার দশমীতে পাহাড়পুর চণ্ডী মন্ডপ প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। মহা ধুমধামে দেবী চণ্ডীকে কাঁধে নিয়ে চাঁচলের মরা মহানন্দার ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। যখন প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়, তখন ওপাড় থেকে লণ্ঠন উঁচিয়ে দেবীকে শেষ বিদায় জানান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন। ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই অনন্য রেওয়াজই প্রমাণ করে চাঁচলের ঐতিহ্য কতটা গভীর। বর্তমান সময়েও সম্প্রীতির এই আলো দুই সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক আস্থা ও ভালোবাসাকে নতুন করে উজ্জ্বল করে তুলল।