Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

বিয়ের জন্য সঞ্চিত অর্থে শুরু মহিলাচালিত জিম

মেয়ের বিয়ের জন্য সঞ্চয় করেন বাবা, মা। কিন্তু মেয়ের লেখাপড়া বা অন্যান্য স্বপ্নপূরণের জন্য তাঁরা টাকা জমান কি?

বিয়ের জন্য সঞ্চিত অর্থে  শুরু মহিলাচালিত জিম
  • ২৮ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মেয়ের বিয়ের জন্য সঞ্চয় করেন বাবা, মা। কিন্তু মেয়ের লেখাপড়া বা অন্যান্য স্বপ্নপূরণের জন্য তাঁরা টাকা জমান কি? বর্তমান সমাজব্যবস্থায় এখনও কন্যাসন্তানের বিয়েকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। কিন্তু সেই হিসেব পালটে দিতে জানেন কিছু মেয়ে। উত্তরপ্রদেশের ছোটো শহর শাহজাহানপুরের মানসী মিশ্র তাদের অন্যতম। মানসী যেখানে বাস করেন, সেখানে স্কুল পেরলেই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া রেওয়াজ। ৩০ বছরের মানসী সেই নিয়ম ভেঙেছেন। শুধু তা-ই নয়। বিয়ের জন্য জমিয়ে রাখা অর্থ দিয়ে নিজের স্বপ্নপূরণ করেছেন। খুলে ফেলেছেন একটি জিম। তাঁর শহরে মহিলাচালিত জিম এই প্রথম। সামাজিক চাপ ছিল। আর্থিক ঝুঁকির দিকটাও চিন্তা করেছিলেন মানসী। বিশেষত জিমের মতো ব্যবসায় এখনও পুরুষ আধিপত্যই রয়েছে। কিন্তু নিজের ট্রেনিংয়ে কোনো ফাঁকি দেননি তিনি। নিজের ফিটনেস সেন্টার খোলার লক্ষ্যেই কাজ শিখেছিলেন। 

Advertisement

অবশেষে সেই স্বপ্নপূরণ সম্ভব হয়েছে। মানসী জানিয়েছেন, বহু ক্ষেত্রে জিমে পুরুষ সদস্যের সংখ্যা বেশি হওয়ায় মহিলারা যেতে দ্বিধাবোধ করেন। এমনকি ট্রেনাররাও অধিকাংশ পুরুষ। তাঁদের কাছে শরীরচর্চার তালিম নিতেও সমস্যা হয় সিংহভাগ মহিলার। সেই সমস্যা মানসীর জিমে নেই। কারণ সেখানে মহিলাদেরই ট্রেনারদের কাজে বহাল করেছেন তিনি। বছর দু’য়েক আগে শুরু হওয়া এই লড়াই সহজ ছিল না। চার ভাই-বোনের কনিষ্ঠা মানসীর স্নাতকোত্তরের পাঠ শেষ হওয়ার পরই বাবা, মা বিয়ের জন্য পাত্র দেখতে শুরু করেন। বেঁকে বসেন তিনি। 
সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে মানসী জানিয়েছেন, বিয়ে নয়, তাঁর জীবনে যে অন্য স্বপ্ন রয়েছে তা ধীরে ধীরে বাবা, মাকে বোঝাতে সক্ষম হন। বিয়ের জন্য জমিয়ে রাখা ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে শুরু করেন জিম। তিনি বলেন, ‘আমি স্বনির্ভর হতে চেয়েছিলাম। সে কারণে জীবনের এক কঠিন সময়ে বিয়ে না করে স্বপ্নপূরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। বিয়ে তো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে আজ স্বপ্নপূরণ করতে পেরে আমি খুশি।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ