Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

স্থায়ী শান্তি ফিরবে? সংশয় রেখে যুদ্ধবিরতিতে ইরান ও আমেরিকা, লেবাননে হামলা নিয়ে এখনও অনড় ইজরায়েল

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের ‘সভ্যতা ধ্বংসে’র হুমকি। ভয়ানক সংঘাতের আশঙ্কায় শুরু হয়েছিল কাউন্টডাউন। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বেঁধে দেওয়া ‘সময়সীমা’ পেরনোর মাত্র ৯০ মিনিট আগে নাটকীয় পট পরিবর্তন।

স্থায়ী শান্তি ফিরবে? সংশয় রেখে যুদ্ধবিরতিতে ইরান ও আমেরিকা, লেবাননে হামলা নিয়ে এখনও অনড় ইজরায়েল
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

দুবাই ও ওয়াশিংটন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের ‘সভ্যতা ধ্বংসে’র হুমকি। ভয়ানক সংঘাতের আশঙ্কায় শুরু হয়েছিল কাউন্টডাউন। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বেঁধে দেওয়া ‘সময়সীমা’ পেরনোর মাত্র ৯০ মিনিট আগে নাটকীয় পট পরিবর্তন। আপাতত দু’সপ্তাহের জন্য ‘যুদ্ধ বিরতি’তে সম্মত হয়েছে ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েল। আর এতে ‘জয়’ দেখছে ইরান। খুশিতে ‘আমেরিকা-ইজরায়েল মুর্দাবাদ’ স্লোগান  দিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় উচ্ছ্বাসে মেতেছে ইরানি জনতা। 

Advertisement

যদিও এখনো বহু প্রশ্নের কোনও স্পষ্ট উত্তর নেই। পক্ষকালের এই যুদ্ধবিরতি কি স্থায়ী শান্তি আনবে? হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ কোন দিকে গড়াবে? ইরানের মিসাইল, পরমাণু কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম ভাণ্ডারের কী হবে? ইজরায়েলের সাফ বার্তা, লেবাননে হিজবুল্লার বিরুদ্ধে তাদের হামলা জারি থাকবে। পালটা তেহরানও বলেছে, লেবানন ও গাজায় আক্রমণ বন্ধ না হলে তারাও ইজরায়েলে মিসাইল দাগবে। এক্ষেত্রে খোদ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্সের মন্তব্য নজর টানছে। তাঁর কথায় এটা আদতে ‘ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি’। অনিশ্চয়তার এই আবহেই যুদ্ধ বন্ধের ‘চুক্তি’ চূড়ান্ত করতে আগামী শুক্রবার থেকে যুযুধান দেশগুলির মধ্যে আলোচনা শুরু হতে পারে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে।
আমেরিকার সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লেখেন, ‘পাকিস্তানের প্রস্তাবিত ইরানের সঙ্গে দু’সপ্তাহের সংঘর্ষ বিরতিতে আমেরিকা রাজি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনা ভিত্তিতে এবং তাঁদের অনুরোধেই আজ রাতে ইরানে ধ্বংসাত্বক বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছি। তবে শর্ত হল, ইরানকে অবিলম্বে হরমুজ খুলে দিতে হবে।’ যদিও ইরান হরমুজ নিয়ে পিছু হটার কোনো ইঙ্গিত এখনও দেয়নি। উলটে তারাও ১০ দফা শর্ত রেখেছে। ট্রাম্প বলেছেন, এই ১০ দফা শর্ত বিবেচনা করা হবে। ইসলামাবাদে আলোচনার যে প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে, সেখানে সব পক্ষের সব দাবিদাওয়া নিয়েই কথা হবে বলে ইঙ্গিত। তবে এই দৌত্য কতটা সফল হবে, প্রশ্ন থাকছে।  
যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় ইতিমধ্যেই দেশের অন্দরে বিরোধীদের তুমুল সমালোচনা হজম করতে হচ্ছে  ট্রাম্প ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে। ট্রাম্পের পদচ্যুতির দাবিও তুলেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। আর ইজরায়েলের বিরোধী দলনেতা ‘রাজনৈতিক বিপর্যয়ে’র অভিযোগ তুলে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সোচ্চার। এক্ষেত্রে পশ্চিম এশিয়া ও হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রভাব আরও শক্তপোক্তই হবে। তেহরান জানিয়ে রেখেছে, ওমানকে সঙ্গে নিয়ে তারা হরমুজে জাহাজ চলাচলের জন্য অর্থ আদায় করবে। তার উপর ইরানের ক্ষতিপূরণের শর্ত মেনে নেওয়া হলে যুদ্ধের আর্থিক ধাক্কার বোঝা ইজরায়েলকে বহন করতে হবে। ফলে ভবিষ্যতে আমেরিকার সঙ্গে ইজরায়েলের সম্পর্কেও চিড় ধরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরইমধ্যে পশ্চিম এশিয়ায় হামলা ও পালটা হামলাও জারি রয়েছে বলে খবর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ