কাঠমাণ্ডু: হড়পা বান বিপর্যয়ে প্রিয়জনকে হারানোর বিলাপ এখন মুখে মুখে ফিরছে নেপালে। দুর্ঘটনার সময় কে কোথায় ছিলেন, কীভাবে চোখের সামনে আত্মীয়দের ভেসে যেতে দেখলেন, সবই এখন আলোচনায়। হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন শিবিরে। সেখানে প্রয়োজন অনেক কিছুর। কিন্তু আয়োজন অপর্যাপ্ত। সবচেয়ে বিপাকে শিশু কোলে মায়েরা। কারণ, শিবিরগুলিতে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য খাবারের বন্দোবস্ত থাকলেও শিশুদের জন্য আলাদা কিছুর ব্যবস্থা নেই। খিদের তাড়সে কেঁদে চলা শিশুদের মুখে বড়োদের জন্য খাবারই তুলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন মায়েরা। উত্তর পশ্চিম কাঠমাণ্ডুর একটি স্কুলে চলা আশ্রয় শিবিরে ঠাঁই হয়েছে শ্রেষ্ঠার। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ননদ আর ১৪ মাসের শিশুসন্তান। রবিবার তিনি জানালেন, ‘শিশুদের জন্য আলাদা কোনো খাবার দেওয়া হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে বড়োদের জন্য বরাদ্দ খাবারই শিশুর মুখে তুলে দিচ্ছি।’ মায়েরা শিশুদের মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানোর মতো ব্যক্তিগত জায়গা পাচ্ছেন না। আর সন্তানসম্ভবা মহিলারা আশঙ্কায় রয়েছেন, উপযুক্ত সময়ে হাসপাতালে যেতে পারবেন তো! সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে প্রায় ৪৯২ জন সন্তানসম্ভবা রয়েছেন। বন্যার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ন’জন সন্তানের জন্ম হয়েছে ত্রিশূলী জেলা হাসপাতালে। বিদ্যুৎ অপ্রতুল। তাই জেনারেটর চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সার্জারি সারতে হচ্ছে।



