Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

আশ্রয় শিবিরে শিশুদের পৃথক খাবার নেই, বড়োদের জন্য বরাদ্দই মুখে তুলে দিচ্ছেন মা

হড়পা বান বিপর্যয়ে প্রিয়জনকে হারানোর বিলাপ এখন মুখে মুখে ফিরছে নেপালে। দুর্ঘটনার সময় কে কোথায় ছিলেন, কীভাবে চোখের সামনে আত্মীয়দের ভেসে যেতে দেখলেন, সবই এখন আলোচনায়।

আশ্রয় শিবিরে শিশুদের পৃথক খাবার নেই,  বড়োদের জন্য বরাদ্দই মুখে তুলে দিচ্ছেন মা
  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কাঠমাণ্ডু: হড়পা বান বিপর্যয়ে প্রিয়জনকে হারানোর বিলাপ এখন মুখে মুখে ফিরছে নেপালে। দুর্ঘটনার সময় কে কোথায় ছিলেন, কীভাবে চোখের সামনে আত্মীয়দের ভেসে যেতে দেখলেন, সবই এখন আলোচনায়। হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন শিবিরে। সেখানে প্রয়োজন অনেক কিছুর। কিন্তু আয়োজন অপর্যাপ্ত। সবচেয়ে বিপাকে শিশু কোলে মায়েরা। কারণ, শিবিরগুলিতে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য খাবারের বন্দোবস্ত থাকলেও শিশুদের জন্য আলাদা কিছুর ব্যবস্থা নেই। খিদের তাড়সে কেঁদে চলা শিশুদের মুখে বড়োদের জন্য খাবারই তুলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন মায়েরা। উত্তর পশ্চিম কাঠমাণ্ডুর একটি স্কুলে চলা আশ্রয় শিবিরে ঠাঁই হয়েছে শ্রেষ্ঠার। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ননদ আর ১৪ মাসের শিশুসন্তান। রবিবার তিনি জানালেন, ‘শিশুদের জন্য আলাদা কোনো খাবার দেওয়া হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে বড়োদের জন্য বরাদ্দ খাবারই শিশুর মুখে তুলে দিচ্ছি।’ মায়েরা শিশুদের মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানোর মতো ব্যক্তিগত জায়গা পাচ্ছেন না। আর সন্তানসম্ভবা মহিলারা আশঙ্কায় রয়েছেন, উপযুক্ত সময়ে হাসপাতালে যেতে পারবেন তো! সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে প্রায় ৪৯২ জন সন্তানসম্ভবা রয়েছেন। বন্যার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ন’জন সন্তানের জন্ম হয়েছে ত্রিশূলী জেলা হাসপাতালে। বিদ্যুৎ অপ্রতুল। তাই জেনারেটর চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সার্জারি সারতে হচ্ছে। 

Advertisement

নেপালে এখন ডিএনএ-র নমুনা মেলানোর কাজ চলছে জোর কদমে। সরকারি হিসাবে ১ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ পাঁচ হাজারেরও বেশি। এখনও পর্যন্ত ২ হাজার ২৭২টি ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২৬০টি সংগ্রহ করা হয়েছে মৃতদেহ থেকে। বাকিগুলি নিখোঁজের আত্মীয়দের। বন্যার আতঙ্ক কেটে গিয়েছে নেপালজুড়েই। বেঁচে ফেরা অনেকেই হাত লাগিয়েছে অন্যকে বাঁচানোর কাজে। ২৬ আগস্ট ভোটে কোশী নদীর হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরেছেন সুদীপ কুমার নেপুনে। তবে হারিয়েছেন ভাই ও এক সহকর্মীকে। এখনও তাঁর চোখের সামনে ভাসছে সেই অভিশপ্ত দিনের ছবি। দু’দিন শোকে-মানসিক কষ্টে কাটানোর পর শুক্রবার থেকে তিনি রাসুয়ায় ত্রাণকর্মীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। সুদীপ বলেন, ‘বরাতজোরে আমি বেঁচে গিয়েছি। যতদিন বাঁচব সমাজ ও মানুষের সেবায় কাজ করব।’ নুয়াকোটেও উদ্ধারকারীদের সঙ্গে হাত লাগিয়েছেন সূচিত যোশি। তাঁর স্ত্রী, সাত বছরের শিশুকন্যা, শ্যালিকা এবং ভাইপো এখনও নিখোঁজ। নিকটাত্মীয়দের খোঁজ চালানোর পাশাপাশি উদ্ধারের কাজও করছেন। এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘বুকে পাথর নিয়ে উদ্ধারের কাজ করছি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ