Bartaman Logo
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

হিমবাহের অবস্থা কী? নেপালের সঙ্গে বৈঠকে তথ্যই জানায়নি চীন, মৃত্যু বেড়ে ৯৫৫

হড়পা বানের পর কেটে গিয়েছে পাঁচটি দিন। এখনও মৃতদেহ গুনে চলেছে নেপাল। মৃতের সংখ্যা ৯৫০ পেরিয়েছে।

হিমবাহের অবস্থা কী? নেপালের সঙ্গে বৈঠকে তথ্যই জানায়নি চীন, মৃত্যু বেড়ে ৯৫৫
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কাঠমাণ্ডু: হড়পা বানের পর কেটে গিয়েছে পাঁচটি দিন। এখনও মৃতদেহ গুনে চলেছে নেপাল। মৃতের সংখ্যা ৯৫০ পেরিয়েছে। নিখোঁজ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪,৭০০ জন। শত শত বাড়ি কাদায় মিশে গিয়েছে। নতুন নতুন জায়গায় উদ্ধারকারী দল পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ থেকে খুঁজে পাচ্ছেন দেহ। সোমবার নেপাল এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই হড়পা বান হিমবাহের গলন এবং ভূমিধসের কারণেই ঘটেছে। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, চীন নিজেদের দেশে হিমবাহের গতিবিধি নিয়ে নেপালকে আগাম সতর্ক করল না কেন? দেশের কোনায় কোনায় অবজারভেটরি সেন্টার বসিয়েছে বেজিং। কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্রে সেই নিয়ে গালভরা প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয় নিয়মিত। অথচ নেপালের সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদান সংক্রান্ত বৈঠকে চীনা কর্তৃপক্ষ কেবল নদীর জলস্তর বৃদ্ধি নিয়েই আলোচনা করে। গত বুধবার কালান্তক বিপর্যয়ের পর এই নিয়ে বেজিংকে কাঠগড়ায় তুলে একাধিক পোস্ট উপচে পড়ছে নেপালের সোশ্যাল মিডিয়ায়। একইসঙ্গে বেজিংয়ের সরকারি পোর্টালে তিব্বত নিয়ে বেশিরভাগ তথ্য আড়াল করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বেজিং জানিয়েছে, হড়পা বানে এখনও পর্যন্ত তিব্বতে ১৬ জন মৃত এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক। যদিও তিব্বতে যাওয়া আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলের সূত্রে জানা যাচ্ছে, অন্তত ৩০০টি বাড়ি পুরোপুরি মাটিতে মিশে গিয়েছে। ফলে বাস্তবে ওই মৃতের সংখ্যা আরও বেশি।

Advertisement

চীনের তথ্য গোপন নিয়ে খোঁজখবর করতে গিয়ে উঠে এসেছে গত ২৭ মে কাঠমাণ্ডুতে আয়োজিত একটি বৈঠকের কথা। সেখানে হাজির ছিলেন নেপালের ১০ জন এবং তিব্বত সহ চীনের ১২-১৪ জন আধিকারিক। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকের আলোচ্য বিষয় ছিল— বন্যা, আবহাওয়া এবং হিমবাহের গলন বা অগ্রগতি। বৈঠকে উপস্থিত দুই নেপালি আধিকারিক জানিয়েছেন, বারবার অনুরোধ করেও চীনের কাছ থেকে হিমবাহ নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য তাঁরা পাননি। নেপালের ফ্লাড ফোরকাস্টিং ডিভিশনের বিশেষজ্ঞ হাইড্রোলজিস্ট সৌহার্দ্য যোশি বলেন, ‘হিমবাহের অবস্থান এবং গতিবিধি নিয়ে আমরা আগাম তথ্য চেয়েছিলাম। তবে চীনা আধিকারিকরা তা নিয়ে বিশেষ কিছু বলতে চায়নি।’ যদিও এই সমালোচনা উড়িয়ে চীনের নেপালি দূতাবাসের সাফাই, বেজিংয়ের পক্ষ থেকে উপযুক্ত সময়েই নেপালকে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে হিমালয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নজরদারি নিয়ে সমস্যা রয়েছে। প্রচণ্ড ঠান্ডায় অবজারভেটরির যন্ত্রপাতি যথাযথভাবে কাজ করতে পারে না। এই কারণে উপগ্রহ চিত্রের উপর নির্ভর করতে হয়। হিমবাহ বরফে ঢাকা থাকায় উপগ্রহ থেকেও ভালো ছবি পাওয়া যায় না। 
তাহলে নেপালকে কোন ধরনের তথ্য জানায় চীন? এপ্রসঙ্গে এক আধিকারিক বলেন, ‘তিব্বতে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলে বেজিং সেই পূর্বাভাস ও পর্যবেক্ষণগুলো সরবরাহ করে। তবে সেই পূর্বভাসে কখনও নিজেদের দেশে হিমবাহ, তুষারধস, জলস্তর বৃদ্ধি বা ভূমিধসের মতো বিষয়ের উল্লেখ থাকে না।’ আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কতা নিয়ে নেপালকে পাঠানো চীনের একটি ইমেল রয়টার্সের হাতে এসেছে । তাতে শুধু বলা হয়েছে, ‘১৪ থেকে ১৯ আগস্ট নিম্নচাপের কারণে ভালো বৃষ্টি হতে পারে চীন লাগোয়া নেপালের বিভিন্ন অংশে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ