বিশকেক (কিরঘিজস্তান): সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে বসছে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। তার আগে কিরঘিজস্থানের বিশকেকে বসেছে এসসিও সম্মেলন। এর অবকাশে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এসসিও সম্মেলনকে ব্রিকস-এর ‘মহড়া’ হিসাবে দেখা হচ্ছে। এখানে একমঞ্চে দেখা যাবে চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংকেও। তবে তাঁর সঙ্গে মোদির পৃথক বৈঠকের সম্ভাবনা ক্ষীণ। সোমবার মোদির সঙ্গে বৈঠকের আগে জিনপিংয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন পুতিন। পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে মোদি সাফ জানিয়েছেন, অন্তহীন যুদ্ধে ছেদ টানতে হবে। এগতে হবে যুদ্ধ অবসানের পথে। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনে সংঘাত বন্ধ হওয়া আবশ্যক। বৈঠকের পর পুতিনের সঙ্গে একই গাড়িতে সওয়ার হন মোদি। দুজনে ওই গাড়িতে চেপে ওয়ার্ল্ড নোমাড গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
অন্যদিকে, আলোচনা ও কূটনৈতিক উপায়ে পশ্চিম এশিয়া সংকটের সমাধানের জন্য পেজেশকিয়ানের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এদিনের একান্ত সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও প্রসারিত করতে করতে চায় ভারত। একইসঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার সংকট আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের আহ্বানও জানিয়েছেন মোদি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়ে রেখেছেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনও রকম অর্থনৈতিক সম্পর্কের খেসারত হিসাবে ‘জরিমানা’ চাপতে পারে। সেই হুমকির আবহেই মোদি-পেজেশকিয়ানের এদিনের সাক্ষাতকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাতে ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও প্রসারিত করার কথা ফের জানানো হয়েছে। আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও আমাদের আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে সব প্রচেষ্টায় ভারতের সমর্থন বজায় থাকবে। বিদেশ মন্ত্রক থেকে বলা হয়েছে, জাহাজ চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা নিরাপদ করার দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিক সহ অসামরিক পরিকাঠামোর যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। ইরানের তরফে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধে তেহরানের প্রতি নয়াদিল্লির সহযোগিতা ও সমর্থনের প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে শান্তিপ্রতিষ্ঠার পক্ষে সওয়াল করেছে ইরানও। তবে তাদের অভিযোগ, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে পাশ কাটিয়ে যুদ্ধের রাস্তা বেছে নিয়েছে আমেরিকা।