


রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়,গঙ্গাজলঘাটি: ‘বিজেপি বাংলার মাটিতে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙে। আর যোগী আদিত্যনাথকে প্রণাম করে। কোনো ভদ্র, শিক্ষিত, মার্জিত মানুষ বিজেপি করতে পারে না। নেশাখোররা বিজেপি করে।’ মঙ্গলবার বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটিতে গেরুয়া শিবিরকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এদিন বড়জোড়া বিজেপি প্রার্থী বিল্লেশ্বর সিনহাকেও আক্রমণ করেন। অভিষেক বলেন, ‘এখানকার বিজেপি প্রার্থী চারটি ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত। আমাদের দলের প্রার্থী গৌতম মিশ্র করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি সমাজসেবী। ফলে বড়জোড়া বিধানসভার বাসিন্দারা কাকে বেছে নেবেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।’
গঙ্গাজলঘাটি ফুটবল ময়দানের জনসভায় এদিন দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ অভিষেক উপস্থিত হন। তার আগে থেকেই সভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। এদিন বাঁকুড়ায় তীব্র দাবদাহ ছিল। এদিন জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা মরশুমের সর্বোচ্চ। প্রচণ্ড রোদগরম উপেক্ষা করে সভায় আসার জন্য তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভূমিষ্ট হয়ে প্রণাম জানান অভিষেক। বক্তব্য রাখতে উঠে তৃণমূল সাংসদ জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘গরম সহ্য করে সভায় এসেছেন, মানে আপনারা তৃণমূলকে হৃদয় থেকে ভালবাসেন। আপনারা সকলে ভোটের লাইনে দাঁড়ালে বিজেপি বাংলাছাড়া হবে। বিজেপির হাতে বাংলার বরাদ্দ বন্ধের রিমোট থাকলে, আপনাদের হাতে ইভিএমের বোতাম রয়েছে। বড়জোড়ায় তৃণমূল জিতলে জেলার টাকা জেলাতেই থাকবে। আর বিজেপি জিতলে বাঁকুড়ার টাকা গুজরাতে চলে যাবে। বিজেপি আপনাদের হারাতে সব এজেন্সিকে ময়দানে নামিয়েছে। তবে সমীক্ষা বলছে, ফের বাংলায় ক্ষমতায় আসতে চলেছে তৃণমূল। বিজেপি মানে, নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি, আর নির্বাচনের পর শুধুই স্মৃতি। ওরা বাঁকুড়ার জন্য কিছুই করেনি।’
অভিষেক আরো বলেন, ‘বিষ্ণুপুরে বিজেপির সাংসদ রয়েছে। বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলায় বড়জোড়া ছাড়া সব বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক রয়েছে। ওরা গত পাঁচ বছরে আমাদের পাঁচ শতাংশ কাজ করেছে, এমন প্রমাণ দেখাতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব। আমি বিজেপির জনপ্রতিনিধিদের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। ক্ষমতা থাকলে মুখোমুখি উন্নয়ন নিয়ে আলোচনায় বসুক। আমরা গত পাঁচ বছরে বড়জোড়া বিধানসভায় ৮০ হাজার মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়েছি। ওই প্রকল্পে মাসে ১৩ কোটি টাকা শুধুমাত্র এই বিধানসভার জন্য খরচ হয়েছে। ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্রামীণ রাস্তা হয়েছে। যে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও ভোটে জিতে ১৫ লক্ষ টাকা ভারতবাসীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেয়নি, যারা বছরে ২ কোটি চাকরি দেয়নি। তারা আর যাইহোক পরিষেবা দিতে পারবে না। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের প্রচারে আমি বড়জোড়ায় দমকল কেন্দ্র গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। ভোটে জেতার পর কোভিডের মধ্যেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি। আমাদের দলের প্রার্থীকে ভোটে জিতিয়ে আনুন। আমি বড়জোড়া বিধানসভার উন্নয়নের দায়িত্ব নেব। কথা দিচ্ছি।’
বিজেপি প্রার্থী বিল্লেশ্বর বলেন, তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে। বড়জোড়ায় পরাজয়ের আশঙ্কায় ঘাসফুলের নেতারা প্রমাদ গুনছেন। সেই কারণে আমাদের ওই ভাষাতে আক্রমণ করা হচ্ছে। তৃণমূলের অভিযোগ ভিত্তিহীন। বড়জোড়ার তৃণমূল প্রার্থী গৌতম মিশ্রের সঙ্গে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজস্ব চিত্র