নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বারাসত: সিএএর মাধ্যমে নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষমতা এবার রাজ্যের হাতেই তুলে দিল কেন্দ্র। ফলে নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষমতা পেলেন জেলাশাসকরা। এজন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, জেলাশাসকদের মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গেই ২৩ হাজার সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। এখনো ২ লাখ ৭ হাজার সার্টিফিকেট প্রদান বাকি। ইচ্ছুক যোগ্য অন্যরাও আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশের যেসব হিন্দু ধর্মীয় কারণে শরণার্থী, তাঁদের সার্টিফিকেট দিতে শুনানি দ্রুততার সঙ্গেই সম্পন্ন করতে পারব আমরা। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, নাগরিকত্ব নিয়ে কোনো ভয় বা সংশয় নেই। মতুয়াসহ বাংলাদেশের হিন্দু উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া সরল করেছে কেন্দ্র। নতুন ব্যবস্থায় জেলাশাসকদের মাধ্যমে দ্রুত নাগরিকত্বের শংসাপত্র প্রদানের পথও খুলে গিয়েছে।
এই পর্বে মতুয়াদের সকলকেই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার বার্তা দিলেন কেন্দ্রে রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুর। রবিবার বারাসতে মতুয়া সম্মেলনে যোগ দেন শান্তনু। ছিলেন দুই বিধায়ক সোমা ঠাকুর ও সুময় হীরা এবং বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি রাজীব পোদ্দার। এই মঞ্চ থেকেই মতুয়াদের সিএএ-তে আবেদন করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। শান্তনুর বক্তব্য, নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার যে প্রক্রিয়া চালু করেছে তাতে মতুয়াদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। ওপার বাংলা থেকে এদেশে আসা হিন্দুদের নাগরিকত্ব প্রদানের বিষয়েও কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট বলেই দাবি করেন তিনি। তাঁর আবেদন, যোগ্য সকল মতুয়াই যেন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পিছনে মতুয়া সমাজের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন শান্তনু। তাঁর দাবি, মতুয়া ভোটারের সংখ্যা প্রায় দুই কোটি। ঠাকুরবাড়ি নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘কুরুচিকর’ মন্তব্য করার পরই মতুয়ারা তৃণমূলের সঙ্গ ছেড়েছেন বলে দাবি শান্তনুর। তিনি বলেন, মতুয়া সমাজের সমর্থন ছাড়া বিজেপির ক্ষমতায় আসা কঠিন হত। আগামী দিনে ভারতের একজন মানুষও ‘নন-সিটিজেন’ থাকবেন না। -নিজস্ব চিত্র