নিউইয়র্ক, ১৭ জুন: মধ্যপ্রাচ্যে অস্থির অবস্থা। ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে উত্তপ্ত গোটা বিশ্ব। চাপ বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের বাজারেও। এর মধ্যেই কানাডায় চলছে জি৭ বৈঠক। সেখানে উপস্থিত রয়েছে ভারত, জাপান, কানাডা, ফ্রান্স, ব্রিটেন, আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি-সহ বিশ্বের একাধিক দেশ। সেখানেও উঠে এসেছে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রসঙ্গ। এর মধ্যেই গতকাল অর্থাৎ সোমবার ভোররাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, সকলের অবিলম্বে তেহরান খালি করে দেওয়া উচিত। পাশাপাশি তিনি জানান, যে চুক্তি স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল ইরানের সেটা করা উচিত ছিল। বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, ইরানে বড়সড় মাপের হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছে ইজরায়েল। সেই ইঙ্গিতই না কী রয়েছে ট্রাম্পের দেওয়া এই সাবধানবাণীতে।
আজ, মঙ্গলবার জি৭ বৈঠকের প্রথমার্ধ্বেই বেরিয়ে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যোগ দেননি কর্মসূচিগুলিতে। এই ঘটনায় হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থির পরিস্থিতির জন্যই না কী বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন ট্রাম্প। ফিরছেন ওয়াশিংটনে। অন্যদিকে, জি৭ বৈঠকে উপস্থিত অধিকাংশই দেশই চেয়েছে দুই দেশে শান্তি ফিরুক। তবে সংঘাতের আবহে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেশের পক্ষেই সমর্থন জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত রাষ্ট্রনেতারা। তাদের বক্তব্য, ইজরায়েলের আত্মরক্ষা করার অধিকার রয়েছে। নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইরান অস্থিরতার অন্যতম কারণ। ফলে তাকে কোনওভাবেই পারমাণবিক হাতিয়ার তৈরি করতে দেওয়া যাবে না।
অন্যদিকে, ট্রাম্প তেহরান খালি করার কথা বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেশ খানিকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা ব্যারেল পিছু প্রায় ৭২.৬৪ ডলার। গত সপ্তাহেও এই দাম ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকৃত দেশগুলির মধ্যে ওপেক-এর দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরান। বিশ্বের খনিজ তেলের ভাণ্ডারের প্রায় ১০ শতাংশই রয়েছে ইরানের কাছে।