Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সোনা ব্যবসায়ী খুনে শিলিগুড়ি থেকে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা, অধরা রাজগঞ্জের বিডিও, পাশে কেএলও

বিধাননগরে সোনা ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন। ওই ঘটনায় বিডিওর গাড়ি চালক এবং ঠিকাদার বন্ধুকে পুলিশ আগেই গ্রেফতার করেছিল।

সোনা ব্যবসায়ী খুনে শিলিগুড়ি থেকে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা, অধরা রাজগঞ্জের বিডিও, পাশে কেএলও
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর ও সংবাদদাতা দিনহাটা: বিধাননগরে সোনা ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন। ওই ঘটনায় বিডিওর গাড়ি চালক এবং ঠিকাদার বন্ধুকে পুলিশ আগেই গ্রেফতার করেছিল। বুধবার শিলিগুড়ি থেকে আরও একজনকে গ্রেফতার করল বিধাননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দা শাখা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম সজল সরকার। তিনি আবার রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের একজন পদাধিকারী নেতাও! সজলকে নিয়ে এই কাণ্ডে মোট তিনজন গ্রেফতার হলেন। তবে, এখনও অধরা ‘স্বঘোষিত দাবাং বিডিও’ প্রশান্ত বর্মন। বিরোধীদের প্রশ্ন, মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না কেন? বিডিও গ্রেফতার হলেই বেরিয়ে আসবে ‘সোনা কাণ্ডের’ আসল রহস্য এবং অপহরণ ও খুনের কাহিনি। এই পর্বেই এদিন সন্ধ্যায় জঙ্গি সংগঠন কেএলও-র প্রধান জীবন সিংহ বিডিও প্রশান্ত বর্মনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এক ভিডিয়ো বার্তায় (যাচাই করেনি বর্তমান) তাঁর দাবি, রাজবংশী বলেই প্রশান্তের উপর অত্যাচার করছে পুলিশ।

Advertisement

গত ২৮ অক্টোবর সল্টলেক দত্তাবাদ থেকে গাড়িতে করে অপহরণ করা হয় সোনা ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে। ওইদিন নিউটাউনের ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে বিডিও-সহ ছয়জনে মিলে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। সেখানেই প্রচণ্ড অত্যাচারের ফলে মৃত্যু হয় স্বপনবাবুর। পরদিন ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছি থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ৩১ অক্টোবর স্বপনবাবুর পরিবারের তরফে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজুসহ তদন্ত শুরু করে। বর্তমানে মামলাটি কমিশনারেটের গোয়েন্দা শাখাকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার বিডিওর গাড়ি চালক রাজু ঢালি এবং ঠিকাদার বন্ধু তুফান থাপাকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের ১২ দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। জেরায় স্বপনবাবুকে খুনের কথা জানতে পেরেছে পুলিশ। তাঁদের জেরা করেই পুলিশ সজল সরকারের যোগ পায়। সজলের বাড়ি কোচবিহারে। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার-২ ব্লকের সভাপতি! সজলবাবু বিডিও প্রশান্ত বর্মনের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। দলের নেতা গ্রেফতার হতেই খোঁজখবর নিচ্ছেন কিছু তৃণমূল নেতা-নেত্রী। জেলায় হইচই পড়ে গিয়েছে। কোচবিহারের প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা ওই ব্লকের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি পরিমল বর্মন বলেন, ‘কোচবিহার-২ ব্লকের সভাপতি সজল সরকারের গ্রেপ্তার সম্পর্কে শুনেছি।’ পুলিশ জানিয়েছে, এই কাণ্ডে তাঁর যোগ মিলেছে। ধৃতকে জেরা করে বাকিদেরও গ্রেফতার করা হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ