Bartaman Logo
২৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নিউটাউনে বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় ধৃত আরও ৩ মহিলা, ‘খুন করেছি’ অকপট স্বীকারোক্তি চন্টুর

নিউটাউনে জমি বিবাদের জেরে বাবা ও ছেলেকে খুনের ঘটনায় ধৃত ৩ মহিলা। চন্টুর অকপট স্বীকারোক্তি। বিস্তারিত জানুন।

নিউটাউনে বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় ধৃত আরও ৩ মহিলা, ‘খুন করেছি’ অকপট স্বীকারোক্তি চন্টুর
  • ২৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে নিউটাউনে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে বাবা ও ছেলেকে। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন মা। ওই ঘটনায় মঙ্গলবার অভিযুক্ত সুরাবুদ্দিন মিস্ত্রি ওরফে চন্টু এবং তাহাজুউদ্দিন মিস্ত্রি ওরফে মিন্টু নামের দু‌ই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছিল টেকনোসিটি থানার পুলিশ। ওই ঘটনায় আরও তিনজন মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হল। ধৃতরা হল, চন্টু ও মিন্টুর স্ত্রী যথাক্রমে তুহিনা বিবি ও ফারহানা বিবি এবং মা আশুরা বিবি। আদালতে যাওয়ার পথে বুধবার চন্টু সংবাদমাধ্যমের কাছে অকপটে স্বীকার করেছে— ‘খুন করেছি’। এদিন নৃশংস হত্যকাণ্ডের একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। তাতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন মিলে দু’জনকে মাটিতে ফেলে কুড়ুল দিয়ে কোপাচ্ছে। প্রতিবেশী এবং পথচলতি মানুষের সামনেই ঘটেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা।

Advertisement

নিউটাউনের পাথরঘাটা ছাপনায় রাস্তার ধারেই মোজাফ্ফর মিস্ত্রি ওরফে মনা এবং তাঁর ভাইদের জমি রয়েছে। সেই জমিতে মোজাফ্ফর একটি একতলা বাড়ি তৈরি করছিলেন। তাতে কাজ চলছিল। জমি নিয়ে মোজাফ্ফরের সঙ্গে তাঁর ভাই মাতব্বর মিস্ত্রির বহুদিনের গণ্ডগোল। অভিযোগ, মঙ্গলবার বিকালে চন্টু, মিন্টু সহ তাদের দু‌ই স্ত্রী, মাতব্বর এবং মাতব্বরের স্ত্র্রী আশুরা আচমকা মোজাফ্ফরদের উপর নারকীয় হামলা চালায়। কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয় মোজাফ্ফর (৫৫) এবং তাঁর ছেলে বাপিকে (২৬)। কোপানো হয়েছে মোজাফ্ফরের স্ত্রী হাসনুয়ারা বেগমকেও। সংকটজনক অবস্থায় তিনি এখন চিকিৎসাধীন। ওইদিন ঘটনাস্থল থেকেই পুলিশ চন্টু ও মিন্টুকে গ্রেপ্তার করেছিল। এদিন গ্রেপ্তার করা হয় তাদের পরিবারের আরও তিন মহিলাকে। তবে ঘটনার পর মাতব্বর পালিয়েছে।
বুধবার ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, মোজাফ্ফর, তাঁর ছেলে এবং স্ত্রীকে কুড়ুল দিয়ে কোপানো হচ্ছে। বাবা-ছেলে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও তাঁদের রেহাই দেওয়া হয়নি। অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকাকালীন তাঁদের মাথায় কুড়ুল দিয়ে আঘাত করা হয়। চিকিৎসকরা পুলিশকে জানিয়েছেন, মোজাফ্ফর এবং তাঁর ছেলে বাপিকে ব্রড ডেথ অবস্থাতেই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। অর্থাৎ, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছিল তাঁদের। গোটা শরীরে অসংখ্য কোপের চিহ্ন মিলেছে।
এদিন সকালে আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে সংবাদমাধ্যমের সামনে খুনের কথা স্বীকার করে সুরাবুদ্দিন। সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে সে বলে, ‘জমি নিয়ে প্রত্যেকদিন ঝামেলা হত। অনেকবার বিচারও বসেছিল। মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তাই খুন করে দিয়েছি। আর কিছু করার নেই।’ পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাতব্বরের খোঁজ চলছে। তাকে শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ