নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পরীক্ষার হলে প্রবেশের আগে খানাতল্লাশির নামে ডাক্তারি ছাত্রীদের সঙ্গে নজিরবিহীন ‘অসভ্যতা’র অভিযোগ উঠল ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে অধ্যক্ষা ডাঃ সুস্মিতা ভট্টাচার্যকে। জানানো হয়েছে স্বাস্থ্যভবন ও স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়েও। ছাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, প্রথম বর্ষের কিছু ছাত্রীর তল্লাশির নামে অন্তর্বাসে হাত ঢোকানো, তাঁরা রজস্বলা কি না পরীক্ষা করে দেখার মতো চরম অসভ্যতা করেছে স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় নিযুক্ত কয়েকজন মহিলা ‘বাউন্সার’। রবিবার ছুটি থাকায় তাঁরা লিখিত অভিযোগ দিতে পারেননি। কিন্তু বিষয়টি অধ্যক্ষাকে জানানো হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদস্বরূপ বহু ছাত্রী তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া স্টেটাসেও বিষয়টি জানান। এক ছাত্রী তো সাফ লিখেছেন, যা হয়েছে, তা ‘অ্যাবসলিউটলি ক্রিমিন্যাল অ্যাক্ট’!
কলেজের এবিভিপি ইউনিটের এক ডাক্তারি পড়ুয়া বলেন, কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে চরম অভদ্রতা হয়েছে। অধ্যক্ষা সুস্মিতাদেবী বলেন, নজিরবিহীন, অবর্ণনীয় অসভ্যতা হয়েছে। এরা কারা? আমি হতবাক। সভ্য দেশে এসব সম্ভব? সরকারিভাবে সব পদক্ষেপ হবে। রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডাঃ মুকুল ভট্টাচার্য বলেন, ঘটনার কথা শুনেছি। গুরুতর অভিযোগ। আজ সোমবারও পরীক্ষা আছে। এই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি যাতে না-হয়, সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কো-অর্ডিনেটর অব এগজামিনেশনসকে পাঠাচ্ছি। ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। দোষ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থাও নিতে পারি। বিশ্ববিদ্যালয় কি ছাত্রছাত্রীদের তল্লাশিতে ‘বাউন্সার’ নিয়োগ করেছে? প্রশ্নে মুকুলবাবু বলেন, ওরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ নয়। একটি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ঘটনা জানতেই অভিযুক্তদের সরিয়ে দিতে বলেছি। এবিভিপির রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য বলেন, তল্লাশি এসওপি মেনে হোক। শালীনতা লঙ্ঘন করে নয়। আশা করি, সরকার সমুচিত পদক্ষেপ করবে।
ন্যাশনাল সূত্রের খবর, শনিবার বেলা ১১টা থেকে ছিল অ্যানাটমি পরীক্ষা। হোম সেন্টার অর্থাৎ ন্যাশনালেই পরীক্ষা কেন্দ্র পড়েছে ফাস্ট এম বি বি এসের। সাড়ে ১০টা নাগাদ ফ্রিস্কিং বা তল্লাশি শুরু হয়। ছাত্রীদের আলাদা ঘরে নিয়ে তল্লাশি করেন কয়েকজন মহিলা ‘বাউন্সার’। সেইসময় এই ধরনের আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ। এক ছাত্রী স্টেটাসে জানিয়েছেন, পরীক্ষায় দেরি হচ্ছে জানানোর পরেও তাঁর এক বন্ধুর তল্লাশি চলতেই থাকে। শেষমেশ হলে ঢুকতে দেরিই হয়ে যায় তাঁর।