নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: চতুর্দিকে জঞ্জাল। বর্ষায় বাড়ছে আগাছা। জমে থাকছে জলও। এমন পরিবেশেই সাধারণত বাড়বাড়ন্ত হয় ডেঙ্গুবাহক মশার। পুজোর মুখে প্রতিবার বিধাননগরে চোখ রাঙায় ডেঙ্গু। তাই মশা মারতে এবার পুরসভার কর্মীদের সঙ্গে মাঠে নামল পুলিশও। অর্থাৎ শহরে অপরাধ দমনের পাশাপাশি এবার মশা নিধনেও শামিল হচ্ছে পুলিশ! গত তিনদিন ধরে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। সাফাই, সচেতনতামূলক প্রচার, মশা মারার ওষুধ স্প্রে, ড্রেন পরিষ্কারসহ প্রতিটি কাজে পুরকর্মীদের সঙ্গে তদারকি করতে দেখা গিয়েছে পুলিশকে। সেই অভিযান সফলও হয়েছে। পুলিশকে দেখে বহু মানুষ এগিয়ে এসেছেন মশার বংশ ধ্বংস করতে।
ডেঙ্গু নিয়ে সতর্ক করছে রাজ্য। কারণ, প্রতি বছর বর্ষার সময় থেকে ডেঙ্গুর উৎপাত শুরু হয়। পুজোর সময় তা মারাত্মক বেড়ে যায়। বিধাননগরেও ডেঙ্গু সংক্রমণ বেশি দেখা দেয় এই সময়। গত বছর সল্টলেকে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছিল। পুরসভা ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডেঙ্গু দমন এবং ডেঙ্গু নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতার প্রসার ঘটাতেই তিন দিনের এই বিশেষ অভিযানের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। শুরু হয়েছিল বৃহস্পতিবার থেকে। শেষ হয় শনিবার। বিধাননগর কমিশনারেটের প্রতিটি থানা পুরসভার কর্মীদের সঙ্গে ওই অভিযানে শামিল হয়।
অনেক সময় পুরসভা কর্মীরা জঞ্জাল সাফাই, আগাছা পরিষ্কার, ফুলের টবে জল জমছে কি না—এসব দেখতে গেলে বাড়ির লোক বাধা দেন। অনেকে পুরসভার কর্মীদের বাড়ির ছাদে উঠতেই দেন না। অতীতে এই ধরনের বহু ঘটনার সাক্ষী হয়েছে পুরসভা। তবে এই তিনদিন অবশ্য মূলত বাড়ির বাইরে জঞ্জাল, ড্রেন, আগাছা সাফাই করা হয়েছে। বিভিন্ন গ্যারাজেও হানা দেওয়া হয়। টায়ারে জমে থাকা জল ফেলা হয়েছে পুলিশের উপস্থিতিতে। পুলিশ থাকা কেউ অবশ্য টুঁ শব্দ করেনি। সেই সঙ্গে তিনদিন মাইকে প্রচার করা হয়েছে। পুলিশের গাড়ি ছাড়াও টোটো নিয়ে প্রচার চলেছে পাড়ায় পাড়ায়।