সংবাদদাতা, কাটোয়া: আউশগ্রামজুড়ে মঙ্গলবার বাংলা দিবস পালন করল তৃণমূল। বিভিন্ন এলাকায় পতাকা উত্তোলন থেকে আদিবাসী নৃত্যের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে কোনও অনুষ্ঠানে দলের বিধায়ক ও আউশগ্রাম-২ ব্লক সভাপতিকে একসঙ্গে দেখা যায়নি। এতে দলের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। যা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে আউশগ্রাম জঙ্গলমহলজুড়ে।
অনেকেই বলছেন, সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, অথচ এখনও ব্লক সভাপতি ও বিধায়কের দ্বন্দ্ব মিটল না। বিরোধীরা এই গোষ্ঠীকোন্দলের ফায়দা তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দলের রাজ্য নেতৃত্ব হস্তক্ষেপ না করলে ভোটেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
এদিন আউশগ্রাম ১ ও ২ ব্লকের বহু অঞ্চলেই বাংলা দিবস পালন করেন তৃণমূল নেতৃত্ব। আউশগ্রাম-১ অঞ্চলের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বিধায়ক অভেদানন্দ থান্ডার সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। আউশগ্রাম-২ ব্লকে ভেদিয়া ও রামনগর অঞ্চলে পাণ্ডুক এলাকায় বাংলা দিবস অনুষ্ঠানে দলের বিধায়ক অভেদানন্দ থান্ডারকে দেখা যায়। কিন্তু সেখানে আউশগ্রাম-২ ব্লকের সভাপতি শেখ আবদুল লালনকে দেখা যায়নি। পাশাপাশি আউশগ্রাম-২ ব্লকের গেড়াই, এড়ালের কলাইঝুটি এলাকায় দলের অনুষ্ঠানে তৃণমূলের সভাপতি শেখ আবদুল লালন ও যুব নেতা সঞ্জুকে দেখা গেলেও বিধায়ককে দেখা যায়নি।
বিধায়ক অভেদানন্দ থান্ডার বলেন, দলের কর্মীরা অনুষ্ঠান করেছেন, সেখানে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, ব্লক সভাপতি আসেন না। পালটা আউশগ্রাম-২ ব্লকের সভাপতি শেখ আবদুল লালন বলেন, দলের নির্দেশ ছিল সব জায়গাতেই একসঙ্গে বাংলা দিবস পালন করতে হবে। কিন্তু বিধায়ক আমাদের অনুষ্ঠানে ডাকলেও আসেন না। আবার ওঁর অনুষ্ঠানে আমাকে ডাকেন না। আমি জেলা নেতৃত্বকে সব জানিয়েছি। এতে দলের কর্মীদের কাছে ভুল বার্তা যাবে।
আউশগ্রামে বিধায়ক বনাম ব্লক সভাপতির দ্বন্দ্ব সর্বজনবিদিত। আগেও একে অপরের দিকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য রাখতে শোনা গিয়েছে। অনুব্রত মণ্ডল জেলে যেতেই আউশগ্রামে তৃণমূলের কোন্দল প্রকাশ্যে এসে পড়েছে। দলের ব্লকের প্রাক্তন কার্যকরী সভাপতি অরূপ মির্ধা কয়েকদিন আগেই থানায় পুলিসের সামনেই ব্লক সভাপতি লালনকে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ। সেই ভিডিও ভাইরালও হয়েছিল। অরূপ মির্ধার সঙ্গে এদিন দলের বিধায়ককে দেখা গিয়েছে।
দলের কর্মী, সমর্থকরা অনেকেই বলছিলেন, দ্বন্দ্ব এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে দলের কর্মসূচিতেও তা প্রভাব পড়ছে। সামাজিক মাধ্যমেও দুই গোষ্ঠীর অনুগামীদের মধ্যে চরম উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা দেখা যায়। তাছাড়া দলের একটি পার্টি অফিস দখলকে কেন্দ্র করেও দুই অনুগামীদের মধ্যে এমন বিবাদ দেখা গিয়েছে যে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছিল।
ব্লক সভাপতি লালন বলেন, বিধায়ক আউশগ্রাম-১ ব্লকে যা ভোট পান তার থেকে বেশি ভোট তিনি আউশগ্রাম-২ অঞ্চল থেকে পান। তারপরেও তিনি এখানে আসেন না।