Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডোমকলের কয়েক হাজার বাসিন্দা এখনও বিবেচনাধীন, উৎকণ্ঠা

ডোমকল মহকুমার কয়েক হাজার বাসিন্দার দশা এখন ত্রিশঙ্কুর মতো। এসআইআর তালিকায় তাঁরা আজও ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

ডোমকলের কয়েক হাজার বাসিন্দা  এখনও বিবেচনাধীন, উৎকণ্ঠা
  • ২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, ডোমকল: ডোমকল মহকুমার কয়েক হাজার বাসিন্দার দশা এখন ত্রিশঙ্কুর মতো। এসআইআর তালিকায় তাঁরা আজও ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন অবস্থায় রয়েছেন। গোছা গোছা নথি জমা দেওয়ার পরও তাঁদের নাম যেমন ভোটার তালিকায় ওঠেনি, তেমনি নাম বাদও যায়নি। কী আছে তাঁদের ভাগ্যে? এই অনিশ্চয়তায় দোদুল্যমান তাঁরা। স্পষ্ট কোনও নির্দেশ না আসায় ধন্দে প্রশাসনের একাংশও।

Advertisement

এসআইআরে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। বহু ডিলিটেড ভোটার ইতিমধ্যেই সেখানে আবেদনও করেছেন। কিন্তু বিবেচনাধীন তালিকাভুক্ত যাঁরা, তেমন কয়েক হাজার বাসিন্দা ঘোর অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। সূত্রের দাবি, শুধুমাত্র জলঙ্গিতেই এমন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৪০০। ডোমকল ব্লকেও প্রায় ৭৪৩ জনের নাম এখনও বিবেচনাধীন। স্থানীয়দের অভিযোগ, জলঙ্গির ২১৭ নম্বর বুথে ২৫৬ জন, ২১৯ নম্বর বুথে ২২৭ জন, ১৯৬ নম্বর বুথে ৭৩ জন এবং ১৯৭ নম্বর বুথে ৫৮ জনের নাম এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।
অভিযোগ, শুনানিতে ডেকে গোছা গোছা নথি জমা নেওয়ার পরও তাঁদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ফলে তাঁরা ভোটও দিতে পারেননি, আবার ট্রাইব্যুনালেও আবেদন করতে পারছেন না। আর তাতেই ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
এই সমস্যার সমাধানের দাবিতে সোমবার জলঙ্গির সাদিখাঁরদিয়াড় এলাকার শতাধিক বাসিন্দা জলঙ্গি বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেও তাঁদের নাম বিচারাধীন তালিকা থেকে সরানো হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সুরাহা না হওয়ায় তাঁরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
আলামিন ইসলাম নামে এক বাসিন্দা বলেন, আমাকে ও আমার স্ত্রীকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। আমরা সমস্ত নথি জমা দিয়েছিলাম। পরে দেখি আমার নাম তালিকায় উঠে গিয়েছে, কিন্তু স্ত্রী বুলুয়ারা খাতুনের নাম এখনও বিবেচনাধীন দেখাচ্ছে। বিভিন্ন অফিসে ঘুরেও কোনো স্পষ্ট উত্তর পাচ্ছি না। আমরা আতঙ্কে রয়েছি।  জলঙ্গির বিধায়ক বাবর আলি বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমি একাধিকবার প্রশাসনের কাছে এ নিয়ে জানতে চেয়েছি। তাঁরাও স্পষ্টভাবে কিছু বলতে পারছেন না। এমনকী সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল। সমস্যাটি সত্যিই উদ্বেগজনক। দিনের পর দিন মানুষকে ঝুলিয়ে না রেখে কমিশনের উচিত দ্রুত তাঁদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসা।
প্রশাসন সূত্রের দাবি, সাধারণ মানুষের থেকে বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তা জানানো হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ