Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

কর্পোরেটের তুলনায় আম আদমির ঘাড়ে করের বোঝা বেশি

মোদি জমানায় কর্পোরেট মহলের ছাড়। আর করের বোঝা বাড়ছে আম আদমির ঘাড়ে। বাজেটের পরিসংখ্যানেই এই তথ্য উঠে এসেছে। সরকারি কোষাগারে রাজস্ব আদায়ে ব্যক্তিগত করের ভাগ এবারও কর্পোরেট করকে ছাপিয়ে গেল।

কর্পোরেটের তুলনায় আম আদমির ঘাড়ে করের বোঝা বেশি
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

নয়াদিল্লি: মোদি জমানায় কর্পোরেট মহলের ছাড়। আর করের বোঝা বাড়ছে আম আদমির ঘাড়ে। বাজেটের পরিসংখ্যানেই এই তথ্য উঠে এসেছে। সরকারি কোষাগারে রাজস্ব আদায়ে ব্যক্তিগত করের ভাগ এবারও কর্পোরেট করকে ছাপিয়ে গেল। ২০২৫-২৬ অর্ষবর্ষে রাজস্বে কর্পোরেট করের ভাগ ১৮ শতাংশ। আর আয়কর ২১ শতাংশ। গত এক দশকে মোদি সরকারের কর্পোরেট প্রীতির বিষয়টি আরও একবার সামনে চলে এল।

Advertisement

২০১৯ সালে বর্তমান কোম্পানিগুলির ট্যাক্স কমিয়ে ২২ শতাংশ করেছিল। নতুন উৎপাদন কোম্পানিগুলির জন্য তা করা হয় ১৫ শতাংশ। বাজেট নথি থেকে দেখা যাচ্ছে যে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ১২ লক্ষ ৩১ হাজার কোটি টাকার কর্পোরেট ট্যাক্স আদায়ের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আর ব্যক্তিগত আয়ে কর থেকে ১৪ লক্ষ ৬৬ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কর্পোরেট কর আদায়ের অনুমান ছিল ১০ লক্ষ ৮২ হাজার কোটি টাকা। আয়কর থেকে ১৪ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। যদিও সংশোধিত হিসাবে কর্পোরেট করের লক্ষ্যমাত্রা হয়েছে ১১ লক্ষ ৯ হাজার কোটি টাকা। আর আয়কর থেকে ১৩ লক্ষ ১২ হাজার কোটি টাকা।

পিআরএস লেজিসলেটিভ রিসার্চের বিশ্লেষণ অনুসারে, ২০০০-০১ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের মধ্যে কর্পোরেট কর থেকে সংগ্রহ বছরে ১৫ শতাংশ করে বেড়েছে। আয়করের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার ১৬ শতাংশ। ২০০০-০১ অর্ষবর্ষে  মোট প্রত্যক্ষ করের মধ্যে আয়করের ভাগ ছিল ৪৭ শতাংশ। ২০২৩-২৪ এ পৌঁছে তা বেড়ে হয়েছে ৫৩ শতাংশ।

২০২৬-২৭ সালের সাধারণ বাজেটের মূল তথ্য অনুসারে, সরকারের আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ হল ঋণ ও দায়। মোট আয়ে এর হার ২৪ শতাংশ। এরপরেই রয়েছে আয়কর। আর কর্পোরেট ট্যাক্স ১৮ শতাংশ। জিএসটি ও অন্যান্য কর ১৫ শতাংশ। এছাড়া কর বহির্ভূত রাজস্ব ১০ শতাংশ, কেন্দ্রীয় অন্তঃশুল্ক ৬ শতাংশ, বহিঃশুল্ক ৪ শতাংশ ও ঋণ বহির্ভূত মূলধন প্রাপ্তি ২ শতাংশ।

গত এক দশকে কর ব্যবস্থায় কর্পোরেট ও পরোক্ষ করকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ঘরোয়া কোম্পানিগুলির কর্পোরেট কর ৩০ শতাংশ থেকে থেকে কমিয়ে ২২ শতাংশ করা হয়েছে। এরপরও এই ক্ষেত্র থেকে সংগ্রহ জিডিপির ৩.৫ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ২.৮ শতাংশ। অন্যদিকে, জিএসটি খাতে সংগ্রহ গত পাঁচ বছরে ৪.৪ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২২.০৮ লক্ষ কোটি টাকা। বছরে বৃদ্ধির হার প্রায় ৯.৪ শতাংশ। এভাবে আমজনতার ঘাড়ে বোঝা চাপানো আর্থিক বৈষম্য বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি রিপোর্ট বলছে, ভারতে শীর্ষ ১০ শতাংশের হাতেই হয়েছে জাতীয় আয়ের ৫৮ শতাংশ। একেবারে নীচের স্তরের ৫০ শতাংশ মানুষের হাতে যায় মাত্র ১৫ শতাংশ। সম্পদের নিরিখে বৈষম্য আরও প্রকট। সেখানে ধনীতম ১০ শতাংশের হাতে রয়েছে মোট সম্পদের ৬৫ শতাংশ। এরমধ্যে একেবারে শীর্ষস্তরের ১ শতাংশের হাতে রয়েছে ৪০ শতাংশ।

সম্পর্কিত সংবাদ