নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: নির্ধারিত মাত্রার থেকে চায়ে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ বেশি হলে তা আর কেনা হবে না। চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিল একাধিক বড় কোম্পানি। ফলে উত্তরবঙ্গে উৎপাদিত চায়ের বরাত বিপুল বাতিল হওয়ার আশঙ্কা। কারণ, এর আগেও উত্তরবঙ্গের চায়ে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কীটনাশকের পরিমাণ বেশি পাওয়া গিয়েছে।
দেশের খুচরো চায়ের বাজারের সবথেকে বড় দুই অংশীদার হিন্দুস্তান ইউনিলিভার এবং টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টস্ (টিসিপিএল)। সর্বশেষ এপ্রিল মাসের তথ্য অনুযায়ী, বাজারের ৫৫ শতাংশ এই দুই সংস্থার দখলে। সম্প্রতি এইচ ইউ এলের তরফে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এখন থেকে এফএসএসএআই-এর ছাড়পত্র এবং কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ সংক্রান্ত মাপকাঠি মেনে তারা সরবরাহকারীদের থেকে চা কিনবে। নমুনা পরীক্ষা করা হবে তাদের এনএবিএল স্বীকৃত পরীক্ষাগারে।
একই পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে টাটা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন টিসিপিএল। সরকার নির্ধারিত কীটনাশকের মাত্রা অতিক্রম করলে সেই চা কেনা হবে না বলে জানিয়েছে তারা। এক্ষেত্রে সরবরাহকারীদের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট, চায়ের গুণমান সংক্রান্ত ঘোষণা এবং ট্রেসেবিলিটি সংক্রান্ত নথি প্রয়োজনে জমা দিতে হবে। এমনকি দরকার মনে করলে টিসিপিএল নিজেরাই চায়ের নমুনা পরীক্ষা করতে পারবে এবং নিয়ম না মানলে বরাত বাতিল করা হবে।
সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হলেও কয়েকটি কীটনাশক চোরাগোপ্তাভাবে উত্তরবঙ্গের বাজারে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ। চা পাতায় আক্রমণ করা পোকা মারতে সেই কীটনাশক অনেক বাগান ব্যবহার করছে। আর এর জেরে চায়ে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।