সংবাদদাতা, বসিরহাট: রাজ্যে পালাবদলের পরেও হাল ফিরল না পাট চাষিদের। বসিরহাট মহকুমার বাদুড়িয়া, স্বরূপনগর, হাড়োয়া, মিনাখাঁ, হিঙ্গলগঞ্জ এলাকায় ব্যাপক পরিমাণে পাট চাষ হয়। প্রতিবারই কৃষকরা লাভের আশায় বিঘার পর বিঘা জমিতে পাট চাষ করেন। কিন্তু এবার খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমেছে বলে তাঁদের অভিযোগ। বাদুড়িয়ার নয়াবস্তিয়া এলাকার কৃষক সুফিয়ান মণ্ডল বলেন, চার মাস হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে পাট উৎপাদন করতে হয়। এক বিঘা জমিতে একজন কৃষকের পক্ষে পাট চাষ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না, তাই অনেকেই আলাদা করে খেতমজুর নিয়োগ করেন। এছাড়াও লাগে সার, কীটনাশক ও সেচের জল। তারপর পাট গাছ কাটা, পাতা ছাড়ানো, জলাশয়ে জাগ দেওয়া, পাট ধোয়ার জন্য দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ লাগে। সব মিলিয়ে বিঘা প্রতি খরচ হয় ১৩ থেকে ১৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে এক বিঘা জমি থেকে সাড়ে চার থেকে পাঁচ কুইন্টাল পাট পাওয়া হয়। এই পাট বিক্রি হয় কুইন্টাল প্রতি সাড়ে ১১ হাজার টাকা থেকে ১২ হাজার ৮০০ টাকায়। সপ্তাহখানেক আগে বাজারদর আরও নিম্নগামী ছিল। সেই সময় কৃষকরা কুইন্টাল প্রতি ৯ থেকে ১০ হাজার টাকায় পাট বেচতে বাধ্য হয়েছেন। শিক্ষক শিমূলকুমার বিশ্বাস বলেন, এ রাজ্যের পাটের চাহিদা রয়েছে মূলত আমেরিকা, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে। পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও আমাদের দেশই পাট উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ পাট উৎপাদনে প্রথম। আগে যখন প্লাস্টিকের আবির্ভাব হয়নি, তখন পাট চাষের মধ্যে দিয়েই এ রাজ্যের কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছিল। রাজ্য সরকার এই বিষয়ে নজর দিলে কৃষকরা উপকৃত হবেন। পাট ব্যবসায়ী বাবলু পাল বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বাজারের চাহিদার উপর পাটের দাম নির্ধারণ হয়। যাঁরা পাট মজুত করেন, তাঁরা সবচেয়ে বেশি লাভবান হন। পাটের বিকল্প হিসাবে প্লাস্টিকের বস্তা বাজারে আসার পর কৃষকদের হাল খারাপ হয়েছে। শুধু পাট চাষি নয়, বিক্রেতাদের অবস্থাও ভালো নয়। বসিরহাট মহকুমার এক বিজেপি নেতা বলেন, শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের উদ্যোগে বারাকপুরের একাধিক বন্ধ জুটমিল চালু হয়েছে। ফলে পাটের চাহিদা এবার বাড়বে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ প্রসঙ্গে বলেছেন, বাংলার পাট চাষিদের শ্রম বিফলে যাবে না। আপনারা রাজ্য সরকারের উপর ভরসা রাখুন। আপনাদের ভাগ্যও পরিবর্তন হবে।-নিজস্ব চিত্র



