নয়াদিল্লি: পেট্রলের পর কি রান্নার জ্বালানিতেও ইথানলের ব্যবহার? ভবিষ্যতে তেমনই পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের। একটি পরিচ্ছন্ন বিকল্প রান্নার জ্বালানি নীতি নিয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে বলে খবর। পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তরফে এব্যাপারে নীতিগত ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে দেশে ইথানলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত। এসব খতিয়ে দেখে এলপিজির পাশাপাশি ইথানলকেও গৃহস্থের রান্নাঘরের বিকল্প জ্বালানি হিসাবে তুলে ধরাই উদ্দেশ্য এনডিএ সরকারের।
তবে এলপিজির চলতি সিলিন্ডারে ইথানল ভরে ব্যবহার করা হবে, বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। ইথানল ব্যবহারের জন্য বিশেষ ধরনের উনুন এবং পৃথক সিলিন্ডারের প্রয়োজন পড়বে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গাদকারি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ইথানল চালিত ওভেনের পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি দাবি করেন, এলপিজির মতোই এই উনুনে নীল রংয়ের শিখা বের হয়। তবে রান্নাঘরে ব্যবহারের আগে এই ইথানলের জ্বালানির যাবতীয় সুরক্ষা বিধি খতিয়ে দেখবে সরকার।
জ্বালানি হিসাবে ইথানলের ব্যবহার করা হলে একাধিক সুবিধা দেখছে সরকার। প্রথমত, দেশে এলপিজির একটি অংশ বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। ইথানলের ব্যবহার বাড়লে আমদানি নির্ভরতা কমবে। দ্বিতীয়ত, আখ, ভুট্টা সহ বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্যের বিরাট বাজার তৈরি হবে। তৃতীয়ত, এই জ্বালানি ব্যবহারে দূষণ কমবে। অর্থাৎ তা পরিবেশবান্ধব। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এলপিজির তুলনায় কি সস্তা হবে ইথানল জ্বালানি? এনিয়ে জোর চর্চা চলছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এব্যাপারে কিছুই জানানো হয়নি। মূলত সরকারের নীতি, উৎপাদন ও পরিবহণ খরচ এবং ওভেনের দামের উপর বিষয়টি নির্ভর করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।