Bartaman Logo
১১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

বৃষ্টির জেরে জাঁকের সমস্যা মিটলেও পাটের দাম কমা নিয়ে চিন্তিত চাষিরা

গত তিনদিনের বৃষ্টিতে পাট চাষিদের কাজ অনেক সহজ হয়েছে। পাটে জাঁক দেওয়ার জলের সমস্যা মিটেছে।

বৃষ্টির জেরে জাঁকের সমস্যা মিটলেও পাটের দাম কমা নিয়ে চিন্তিত চাষিরা
  • ২৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: গত তিনদিনের বৃষ্টিতে পাট চাষিদের কাজ অনেক সহজ হয়েছে। পাটে জাঁক দেওয়ার জলের সমস্যা মিটেছে। তবে পাটের দাম পড়তে শুরু করায় চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ চওড়া হতে শুরু করেছে। পশাপাশি গোদের উপর বিষফোড়ার মতো খেতমজুরের মজুরি বৃদ্ধি চাষিদের অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে। চাষিদের দাবি, গত এক সপ্তাহে পাটের দাম কুইন্ট্যাল প্রতি তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা কমেছে। এই হারে দাম পড়তে থাকলে এবং মজুরি বাড়তে থাকলে লাভের অঙ্ক তলানিতে এসে ঠেকবে। 

Advertisement

মুর্শিদাবাদ জেলায় এবার প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। পাটের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির কারনে ফলনও ভালো হয়েছে বলেই দাবি চাষিদের। তবে পাট কাটার শুরু থেকেই চাষিরা তীব্র জলসঙ্কটে ভুগছিলেন। চড়া বাজার ধরতে চাষিরা বিঘাপ্রতি জমির পাট পচাতে ১২০০ টাকা হারে পুকুরের জল ভাড়ায় নিয়ে পাট পচিয়েছেন। বহু চাষি জমির একাংশে খাল কেটে শ্যালো মেসিন চালিয়ে জলভরে পাটে জাঁক দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তাতে চাষিদের পাট চাষের খরচ অনেকটা বেড়েছে বলেই তাঁরা দাবি করেছেন। 
গত তিনদিন ধরে মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে কার্যর মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সোমবার দুপুরে প্রায় আড়াই ঘন্টা ধরে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বৃষ্টি হওয়ায় খাল-বিল জলে থৈথৈ করছে। এরফলে পাটে জাঁক দেওয়া নিয়ে চাষিদের সমস্যা মিটেছে। মঙ্গলবার থেকেই পাট পচানো ও পচা পাটের আঁশ ছাড়াতে চাষিরা কার্যত ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। খেতমজুরের চাহিদা বাড়ায় মজুরি ছ›শো টাকা থেকে সাতশো টাকায় পৌঁছেছে। একদিকে মজুরি বাড়ছে অন্যদিকে পাটের দাম হুহু করে কমছে। বহরমপুর ব্লকের নওদা পানুড় এলাকার পাট চাষি মোজাম্মেল হক বলেন, এক সপ্তাহ আগে ১৯ হাজার টাকা কুইন্টাল দরে পাট বিক্রি হয়েছে। সেই দাম এখন ১৬ হাজার টাকা কুইন্টালে নেমে এসেছে। পাটের গুনমান একটু খারাপ হলে তার দাম পনেরো থেকে সাড়ে পনেরো হাজার টাকার উপরে উঠছে না। চাষিদের বক্তব্য, একই জল একাধিক চাষি খেপে খেপে ব্যবহার করায় সেই পাটের গুনমান কমে। হরিহরপাড়া ব্লকের মাঠপাড়া এলাকার চাষি সনৎ মণ্ডল বলেন, খেতজুরের দৈনিক পারিশ্রমিক পাঁচশো টাকা থেকে ছ›শো টাকা হল। বুধবার তারাই  সাতশো-আটশো টাকা হাঁকাচ্ছে। বিঘা প্রতি পাটের আঁশ ছাড়াতে সাড়ে পাঁচ থেকে ছ’হাজার টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে। এরপর রোদে শুকানোর খরচ আছে। পাট চাষে যত লাভ আশা করেছিলাম তা হবে না।  নওদা পানুড় এলাকায় পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছেন চাষিরা। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ