নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্মার্ট মিটারের ক্ষেত্রে আপাতত ধীরে চলো নীতি নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। জোর করে বা তাড়াহুড়ো করে এই মিটার না বসিয়ে, গ্রাহকে বুঝিয়ে বা সচেতনতা বাড়িয়ে সেই কাজ সম্পন্ন করতে চাইছে তারা। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী তথা বিদ্যুৎমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বার্তাই দিয়েছেন। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি,শিল্প সংস্থার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায় করতেই হবে। এক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রাজ্যের।
এদিন বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্তাদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ চুরি বা হুকিং বন্ধ করতেই হবে। শিল্প বা বাণিজ্যিক ক্ষেত্রের বকেয়া বিল আদায়ে কোনও রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক বা সাংসদের অনুরোধও রাখা হবে না। বিজেপির হলেও না। তবে সাধারণ গ্রাহকের ক্ষেত্রে মানবিকতাকে গুরুত্ব দিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, অনেক রোগ আছে, যা গৃহস্থের আর্থিক অবস্থা শেষ করে দেয়। এমন ঘটনায় বিদ্যুৎ বিল না মেটাতে পারলে, আগে নোটিস দিন। তারপর আদায় করুন। তাঁর যদি নিয়মিত বিল মেটানোর ইতিহাস থাকে, সেক্ষেত্রে রুক্ষভাবে বিল আদায় না করার পরামর্শ তাঁর। স্মার্ট মিটারের ক্ষেত্রেও বলেন, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন আমি বিরোধিতা করেছিলাম। কিন্তু এখন মানুষকে সচেতন করতে হবে। যদি এই মিটার বসানোর পর গ্রাহকের কোনও ক্ষোভ থাকে, যদি অস্বাভাবিক অঙ্কের বিল আসে, তাহলে যাতে অভিযোগ জানানো যায় এবং তার সুরাহা মেলে, সেই বিষয়ে দপ্তরকে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন তিনি। বলেন, গৃহস্থের বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে অর্থের চেয়ে পরিষেবাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
এদিন শুভেন্দুবাবু অভিযোগ করেন, তৃণমূল জমানায় সব কাজই অর্ধেক হয়ে পড়েছিল। সাব স্টেশনগুলি ঠিকঠাক হয়নি। তাই বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকলেও, কোথাও কোথাও চার ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকত না। লো ভোল্টেজের সমস্যাও ছিল। তাঁর কথায়, সরকারের জন্য এসব ভালো নয়। তাই যেখানে সাব স্টেশন গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তা দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বড় শহর, পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে মাটির নীচ দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
পাশাপাশি ‘থার্ড পার্টি’র মাধ্যমে যাঁরা বিদ্যুৎ দপ্তরে নিয়োজিত, তাঁদের বেতন বৃদ্ধির ব্যাপারেও পর্যালোচনার নির্দেশ দেন তিনি। এদিন নবান্ন সভাঘর থেকে ‘সূর্য ঘর’ প্রকল্পের সূচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় ভরতুকির পাশাপাশি আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়াদের জন্য যাতে রাজ্য সরকারের তরফে কোনও স্কিম আনা যায়, সেই চেষ্টা চলছে।