নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: তৃণমূল কাউন্সিলারের পরিবারের পুকুর। সেটি ভরাট করার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল জমানাতেই। সেই জায়গায় পুকুর ফিরিয়ে আনতে বুধবার নতুন করে খনন করল দক্ষিণ দমদম পুরসভা। আর এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দ পল্লিতে। যদিও কাউন্সিলারের পরিবারের সদস্যদের দাবি, ওই জায়গায় কোনো পুকুর ছিল না। তার প্রমাণে কাগজপত্রও দেখানো হয়েছিল। তারপরও বিজেপি গায়ের জোরে পুরসভাকে দিয়ে গর্ত খুঁড়িয়েছে এবং একটি বাড়ি ভেঙেছে।
দক্ষিণ দমদম পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার বিউটি হালদার। তাঁর স্বামীর নাম বিপ্লব হালদার। বিবেকানন্দ পল্লিতে তাঁদের বাড়ি লাগোয়া একটি পুকুর ছিল। ২০১২ সালে সেই পুকুর ভরাটের অভিযোগ ওঠে। সেই সময় অবশ্য বিউটিদেবী বা তাঁর স্বামী কাউন্সিলার ছিলেন না। পুরসভায় পুকুর ভরাটের অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। এরপর পুরসভার তরফে থানায় অভিযোগ করা হয়। পরে সব ধামাচাপা পড়ে যায়। পালাবদলের পর নতুন করে অভিযোগ দায়ের হতেই পুরসভা প্রথমে নোটিস দেয়।
বুধবার দু’টি জেসিবি নিয়ে পুরসভার আধিকারিক ও দমদম থানার পুলিশ হাজির হয়। নতুন করে খনন শুরু করতেই বিপ্লববাবু, তাঁর স্ত্রী বিউটিদেবীসহ পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়। এরপর ওই জায়গায় থাকা একটি টিনের ঘর ভেঙে দেওয়া হয় এবং পুকুর খনন করা হয়। বিপ্লববাবু বলেন, ‘এনিয়ে আগেই আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আদালত ওই জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করে রেখেছে। তাছাড়া ফিশারিজের নির্দেশিকাসহ অন্যান্য কাগজ দেখানো হয়। কিন্তু কিছুই মানেনি প্রশাসন। উলটে আমাদের হেনস্তা করা হয়েছে। গায়ের জোরে আমাদের একটি ঘর ভেঙে গর্ত খোঁড়া হয়েছে। আমরা আইনের দারস্থ হব।’
দমদমের বিধায়ক অরিজিৎ বক্সি বলেন, ‘২০১৫ সালে পুরসভার চেয়ারম্যান পাঁচু রায় দমদম থানায় বিপ্লব হালদার ও তাঁর দুই ভাইয়ের নামে পুকুর ভরাটের অভিযোগ করেছিলেন দমদম থানায়। পুলিশ বর্তমান পুর প্রতিনিধির স্বামীকে গ্রেপ্তারও করেছিল। আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করেছে পুরসভা।’