পক্ষে:
পক্ষে:
দেবযানী মিত্র দত্ত
যে ভাষাতে শিশু মায়ের কাছে প্রথম কথা বলতে শেখে, সেটাই তার মাতৃভাষা। রাজ্য, দেশ, অঞ্চল হিসাবে তার একটা গুরুত্ব থাকে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে বাঙালি জাতি ও বিশ্বব্যাপী মাতৃভাষার অধিকার উদযাপনের দিন। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়। এই ইতিহাস আজ ক’জন জানেন?
গৃহশিক্ষিকা
সৌমিত্র মজুমদার
‘উঠল বাই তো কটক যাই!’ হুজুগে বাঙালি সবকিছুই যেন আবেগে উদযাপন করে। ভাষার অধিকার ছিনিয়ে আনতে কত ভাষাপ্রেমী শহিদ হয়েছিলেন, তার ইতিহাস আর ক’জন মনে রেখেছেন বা আদৌ জানেন? চকোলেট ডে, ভ্যালেনটাইনস ডে-র মতোই ভাষা দিবসও বছরের একটি উৎসবের ‘ডে’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব দেখে ভীষণ দুঃখ হয়।
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী
দীপমাল্য চন্দ্র
যে ভাষা চিনিয়েছে সুনির্মল মানব হওয়ার মন্ত্র, মায়ের হাত ধরে যে অক্ষরের সুবাস প্রথম টের পেয়েছিলাম, সেই ভাষার স্বীকৃতির মুকুট ছিনিয়ে আনতে তাজা তরুণ প্রাণে ঝরেছিল রক্ত। কিন্তু সেই ইতিহাস অনেকেরই অজ্ঞাত। বাংলা ভাষা নিয়ে মাতামাতির জন্য বরাদ্দ একুশে ফেব্রুয়ারি। চারদিকে চলে অমর একুশের অনুষ্ঠান। নবীন প্রজন্মও হুজুগে গা ভাসায়।
গৃহশিক্ষক
মৃণাল অধিকারী
ভাষা দিবসের ইতিহাস অনেকেরই অজানা। কিন্তু হুজুগে বাঙালি স্রোতে ভেসেছে ২১ ফেব্রুয়ারি। ইতিহাস বলে ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান উর্দুকেই একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তার তীব্র প্রতিবাদ হয় এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলা করার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মিছিলে পূর্ব পাকিস্তানের পুলিশের গুলিবর্ষণে মৃত্যুবরণ করেন বহু ছাত্র। ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। এটা কতজন জানেন?
চাকুরে
বিপক্ষে
দিশা কর্মকার
যে কোনো দেশের মাতৃভাষার সঙ্গে সেই দেশের মানুষের মেলবন্ধন আজীবন। কারণ এই মাতৃভাষাকে জড়িয়েই আমাদের জীবনে ছোটো থেকে বড়ো হয়ে ওঠা। কর্মক্ষেত্রে মানুষ নানা দেশের নানা ভাষায় কথা বললেও নিজের মাতৃভাষায় কথা বলতে পারা আমাদের কাছে এক অনন্য প্রাপ্তি। নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়া। তাই শুধু একটা নির্দিষ্ট দিন নয়, বরং প্রতিটা দিনই আমাদের ভাষা দিবস হিসেবে পালন করা উচিত।
ছাত্রী
মঙ্গলপ্রসাদ মাইতি
ভাষা দিবস এক মহান দিবস। আমরা বাংলায় যারা কথা বলি তাদের কাছে এক অহংকারের দিন। তাই ভাষা দিবস নিয়ে মাতামাতি করাটাই স্বাভাবিক। ভাষা দিবসের ইতিহাস না জেনেও যাঁরা এই দিনটিকে সামনে রেখে আনন্দ উত্সব করেন তার মধ্যে খারাপ কিছু নেই। হুজুগে ভাসা এটা বলা যাবে না। যাঁরা ভাষা দিবসের ইতিহাস জানেন না অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই তো সেই ইতিহাসকে জানার সুযোগ পাবেন। ভাষা দিবস আমাদের কাছে এক যুদ্ধজয়ের সকাল, সংগ্রামী চেতনাকে শানিত করার দিন। হৃদয়ে নিবিড়ভাবে ছুঁয়ে যাওয়া, মিশে যাওয়া এক অনুপম সত্তা এই ভাষা দিবস। তাই ভাষা দিবসকে শ্রদ্ধা না করে থাকা যায় না, অন্তর দিয়ে ভালো না বেসে থাকা যায় না।
শিক্ষক
দীপান্বিতা পালনদার
মাতৃভাষার সঙ্গে আমাদের নাড়ির সম্পর্ক। কেবল ভাষা দিবস নয়, বাংলার জল-মাটির সঙ্গে জড়িয়ে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, ভাষা শহিদদের রক্তবিন্দু। অমর একুশের প্রেক্ষাপট আমাদের সত্তায় রয়েছে। অতএব কেবল হুজুগে উদযাপন নয়, ভাষা দিবস আজও দুই বাংলার মানুষ পালন করেন শ্রদ্ধায়, এর ঐতিহাসিক মর্ম বুঝে। শুধু হ্যাশট্যাগ দিয়ে নয়, শহিদ বেদিতে ফুল সাজিয়ে ফোটো আপলোড করে নয়, আজও ভাষা দিবস পালন করা হয় সম্মানের সঙ্গে।
গৃহশিক্ষিকা
সনৎ ঘোষ
অজানা কিছুই নয়, আছে কেবল উদযাপনের জাঁকজমক। আসলে বাংলা ভাষা চর্চার ক্ষেত্রে হারিয়ে গিয়েছে শুদ্ধতা। বলার ক্ষেত্রে শুদ্ধ উচ্চারণ ও লেখনীতে সঠিক ব্যকরণ বিধি প্রয়োগে দেখা যায় ঘাটতি। অনেক সময় দেওয়াল লিখন ও বিজ্ঞাপনী প্রচারেও অসতর্কতার কারণে দেখতে হয় ভুল বানান। নেই চিঠি লেখার অভ্যাস। ফলত প্রায় প্রতিটা বাড়িতে লেখনীর মধ্যে দিয়ে বাংলা ভাষা চর্চা আজ অতীত। বর্তমানে মোবাইলে যে মেসেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ করা হয় সেখানে বাংলা উচ্চারণে ইংরেজি হরফের ব্যবহার হচ্ছে। মানতে হচ্ছে না ব্যকরণ বিধি। তবুও ভাষা দিবসের মঞ্চে ইতিহাস স্মরণ করে বছর বছর পালিত হয় একুশে ফেব্রুয়ারি।
সরকারি কর্মচারী