Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘আমাদের দুর্দশা দেখেই হাইকোর্ট প্রাথমিকের চাকরি বহাল রাখল’, বলছেন এসএসসি’র চাকরিহারাদের একাংশ

সুপ্রিম কোর্টে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের চাকরি বাতিলের নির্দেশই নতুন জীবন দিয়েছে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষককে।

‘আমাদের দুর্দশা দেখেই হাইকোর্ট প্রাথমিকের চাকরি বহাল রাখল’, বলছেন এসএসসি’র চাকরিহারাদের একাংশ
  • ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের চাকরি বাতিলের নির্দেশই নতুন জীবন দিয়েছে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষককে। বুধবার হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এই প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি বহাল রেখেছে। এই রায়ের পিছনে নিজেদের চাকরি হারানোকেই বড়ো কারণ হিসেবে দেখছেন শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের একটা বিরাট অংশ। ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করায় তাঁদের জীবনে কী প্রভাব পড়েছে, সেটা দেখেই প্রাথমিকের শিক্ষকদের চাকরি বাতিল করেনি হাইকোর্ট। এমনই মনে করছেন চাকরিহারাদের অনেকে।

Advertisement

চাকরিহারা গ্রুপ ডি কর্মী সুদাম মণ্ডল বলেন, ‘যে মানবিক দৃষ্টিতে হাইকোর্ট মামলাটি দেখেছে, সেটা থেকে সুপ্রিম কোর্টে আমরা বঞ্চিত হয়েছি। হাইকোর্ট কিন্তু একবারও বলেনি যে প্রাথমিক নিয়োগে দুর্নীতি হয়নি। সেই কারণেই সিবিআইকে তদন্তও চালিয়ে যেতে বলেছে। তবে, এখনও পর্যন্ত সিবিআই দুর্নীতির প্রত্যক্ষ প্রমাণ দিতে না পারায় চাকরি বাতিল করা হয়নি। বিচারপতিরা তাঁদের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ন’বছর পরে এই শিক্ষকদের চাকরি বাতিল করা হলে তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অথচ, আমরাও সাত-আট বছর ধরে কর্মরত ছিলাম। সুপ্রিম কোর্ট আমাদের বিষয়টা এভাবে দেখেইনি। হাইকোর্ট কিন্তু এসএসসি’র চাকরি বাতিলের পরে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের দুরবস্থা দেখেই প্রাথমিকে ইতিবাচক রায় দিয়েছে।’
এই প্রেক্ষিতে একটা মহলের দাবি, এসএসসি’তে যেভাবে দুর্নীতির প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছিল, তা প্রাথমিকে মেলেনি। সেটাই মূল কারণ এই রায়ের। তবে, শিক্ষাকর্মীরা বলছেন, তাঁদের মধ্যেও গ্রুপ সি পদে ১২৫৫ জন এবং গ্রুপ ডি পদে ২১৩৯ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনও প্রমাণ মেলেনি। তবে, তাঁদের চাকরি সরাসরি বাতিল করা হয়েছে। শিক্ষকদের মতো ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরি করে যাওয়ার সুযোগও তাঁরা পাননি। বরং ৭,২৯৩ জনকে (চূড়ান্ত প্যানেল এবং ওয়েটিং লিস্ট মিলিয়ে) টেইন্টেড বা অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা গিয়েছে। তাঁদের বাদ দিয়েই বাকিদের চাকরি রেখে দেওয়া যেত।
প্রসঙ্গত, আদালতের নির্দেশে এসএসসি ওয়েটিং লিস্ট মিলিয়ে যোগ্য শিক্ষাকর্মীদের তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে ৮ ডিসেম্বর। আদালতকে একটি অযোগ্য শিক্ষাকর্মীর তালিকাও জমা দেবে। তাতে এখনও পর্যন্ত প্রকাশিত সংখ্যায় কিছু হেরফের হতে পারে। যোগ‌্যরাই পরীক্ষায় বসতে পারবেন। বাকিরা পরীক্ষায় বসতে তো পারবেনই না, উলটে বেতনের টাকা ফেরাতে হবে তাঁদের। রাজ্য সরকার অবশ্য এখনই টাকা ফেরানো নিয়ে কোনও চাপ সৃষ্টি করেনি এই চাকরিহারাদের।
এদিকে, এদিনই এসএসসি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, তারা যে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে, তা হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়ের উপরে নির্ভরশীল। সেই রায়ের আগে বাছাই প্রক্রিয়ার কোনও ফলাফলে প্রার্থীদের অধিকার নিশ্চিত হবে না। এদিকে, চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক মঞ্চের অন্যতম নেতা মেহবুব মণ্ডলও সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ‘নিকৃষ্ট এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে অভিযোগ করেছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ