Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

ভোজশালার বিতর্কিত জায়গাটি ‘সরস্বতী মন্দির’, ঘোষণা মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের, নামাজের অনুমতি সংক্রান্ত এএসআইয়ের নির্দেশিকা খারিজ

২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর। অযোধ্যার রামমন্দির-বাবরি মসজিদ বিতর্কে ঐতিসাহিক রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই রায়ের সাড়ে ছ’বছর পর আরও একটি বিতর্কিত সৌধ ঘিরে আদালতে বড়ো জয় হল হিন্দু আবেদনকারীদের।

ভোজশালার বিতর্কিত জায়গাটি ‘সরস্বতী মন্দির’, ঘোষণা মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের, নামাজের অনুমতি সংক্রান্ত এএসআইয়ের নির্দেশিকা খারিজ
  • ১৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ইন্দোর: ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর। অযোধ্যার রামমন্দির-বাবরি মসজিদ বিতর্কে ঐতিসাহিক রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই রায়ের সাড়ে ছ’বছর পর আরও একটি বিতর্কিত সৌধ ঘিরে আদালতে বড়ো জয় হল হিন্দু আবেদনকারীদের। মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায় ভোজশালা মন্দির-কামাল মৌলা মসজিদ বিতর্কে শুক্রবার রায়দান করেছে হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ। বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্লা ও বিচারপতি অলোক অবস্তি ঘোষণা করেছেন, একাদশ শতাব্দীতে তৈরি ভোজশালার বিতর্কিত সৌধটি আদতে বাগদেবী সরস্বতীর মন্দির। ঐতিহাসিক দলিল, সাহিত্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে ওই বিতর্কিত কাঠামোর ধর্মীয় চরিত্র সম্পর্কে  ইঙ্গিত মিলছে, ভোজশালায় সরস্বতী মন্দির ও একটি সংস্কৃতি শিক্ষাকেন্দ্র ছিল। ধার জেলায় পারমার রাজবংশের রাজা ভোজের শাসনকালে এগুলি তৈরি হয়। কিছু নিয়ন্ত্রণ সত্ত্বেও ওই স্থানে পূজার্চনা অব্যাহত ছিল বলেই দেখা গিয়েছে। হিন্দুদের পক্ষে রায়দানের সঙ্গেই মুসলিম আবেদনকারীদের ধর্মীয় অধিকারকেও সুরক্ষিত করার চেষ্টা চালিয়েছে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতিরা বলেছেন, মৌলানা কামালুদ্দিন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি যদি মসজিদ নির্মাণের জন্য ধার জেলাতেই বিকল্প জমি চেয়ে আবেদন জানায়, তাহলে মধ্যপ্রদেশ সরকার তা বিবেচনা করতে পারে।

Advertisement

ভোজশালা বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ায় ২০২৪ সালের ১১ মার্চ ভারতের পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণকে (এএসআই) ওই স্থলে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। ওই বছরই ১৫ জুলাই হাইকোর্টে ২ হাজার পাতার সমীক্ষা রিপোর্ট পেশ করে এএসআই। তাদের ২০০৩ সালের একটি নির্দেশিকাকেও এদিন খারিজ করে দিয়েছে উচ্চ আদালত। ওই নির্দেশিকায় প্রতি মঙ্গলবার হিন্দুদের পূজার্চনার পাশাপাশি শুক্রবার করে মুসলিমদের নামাজের অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশিকা খারিজ করে বিতর্কিত স্থলে হিন্দুদের একচ্ছত্র অধিকারের দাবিতেই সিলমোহর দিয়েছে হাইকোর্ট। তবে জানানো হয়েছে, ওই স্থলের সংরক্ষণ ও সংস্কারের দায়িত্ব এএসআইয়ের হাতেই থাকবে। এই মামলায় হিন্দু আবেদনকারীদের দাবি ছিল, লন্ডনের মিউজিয়াম থেকে সরস্বতী মূর্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। সেই ইস্যুতে হাইকোর্ট বলেছে, মূর্তি ফিরিয়ে এনে তা ভোজশালা চত্বরে প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে।
শুক্রবারের নামাজের দিনই রায় ঘোষণার কথা মাথায় রেখে এদিন ভোজশালা চত্বরে প্রায় ১ হাজার ২০০ পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। গোটা এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়। ধারের জেলাশাসক রাজীব রঞ্জন মীনা জনসাধারণকে সতর্ক করে জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ইস্যুতে কেউ আপত্তিকর কিছু ছড়ানোর চেষ্টা করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ