সন্দীপন দত্ত, গাজোল: এসআইআর পর্ব শেষ করে ফেব্রুয়ারিতেই বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণার জল্পনা চরমে। এই আবর্তে বিজেপি বিরোধিতার সুর চরমে নিয়ে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার মালদহের গাজোলের জনসভা মঞ্চ থেকে তিনি নিশানা করলেন পদ্মপার্টিকে। রাজ্য দখলের স্বপ্নে বিভোর গেরুয়া শিবিরের উদ্দেশে মমতার সাফ বার্তা— ‘বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি। ইংরেজরা দু’শো বছরের বেশি রাজত্ব করেও বাংলাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি, দখল রাখতে পারেনি। বিজেপিও পারবে না।’ একইসঙ্গে তাঁর হুঙ্কার—‘রক্ত দেব, কলিজা দেব, বাংলাকে ভাগ করতে দেব না। এসআইআর করে তোমরা নিজেদের কবর খুঁড়েছ। বিহার তুমি দখল করেছ, বাংলায় তা করা সম্ভব নয়।’ এসআইআরে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় ভুগছে রাজ্যের বহু বাসিন্দা। এই পরিস্থিতিতে আশ্বাসবাণী শুনিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এসআইআরের ফর্ম অবশ্যই ফিল আপ করবেন, হিয়ারিংয়েও যাবেন। নয়তো নামটা কেটে দেবে। তখন ভোট দিতে পারবেন না। আমরা ১২ ডিসেম্বর থেকে ব্লকে ব্লকে ‘মে আই হেল্প ইউ’ ক্যাম্প চালু করছি। সমস্যা হলে সেখানে যান।’
বিভাজনের রাজনীতি করে ফায়দা তোলার যে চেষ্টা বিজেপি করে, তা রুখে দেওয়ার বার্তাও দিয়েছেন মমতা। বলেছেন, ‘বিভেদের কথায় বিশ্বাস করবেন না, মনে রাখবেন আমরা ধর্মনিরপেক্ষ।’ এদিনের ভাষণের সিংহভাগ অংশে এসআইআর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বাক্যবাণে বিদ্ধ করেছেন মোদি সরকারকে। তাঁর কটাক্ষ, ‘একবার নোটবন্দি আর এবার এসআইআরের নামে গণবন্দি!’ তিনি আরও বলেন, ‘একবারও বলিনি যে স্পেশ্যাল রিভিশন আর সেন্সাস করবে না। তার জন্য সময় লাগে। নির্বাচনের মুখে এত তাড়া কীসের?’ এই প্রশ্নের জবাবেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করেন মমতা। বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি মাসে ভোট ঘোষণা করবে। তাই চালাকি করে তিন মাস আগে এসব অমিত শাহ করছেন। যতই চালাকি করো, এর দ্বারা মহৎ কাজ হয় না।’ এসআইআর পর্বে একের পর এক বিএলওর মৃত্যু ও কাজের চাপে অসুস্থ হওয়ার প্রসঙ্গও এদিন টেনে আনেন তিনি। বলেন, ‘বাংলায় ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর কত প্রাণ যাবে, আর কত বলিদান?’
মমতার মুখে এদিনও উঠে এসেছে কেন্দ্রের বঞ্চনার প্রসঙ্গ। তিনি এও অভিযোগ করেছেন, ‘উন্নয়নের কাজ বন্ধ করে ছ’মাস আগে থেকে রাজ্যে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে বিজেপি। বাংলার মানুষ যাতে পরিষেবা না পায়, সেই চেষ্টাই চলছে।’ এই পরিস্থিতিতে এসআইআর নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সবসময় পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তাঁর প্রত্যয়ী ঘোষণা—‘এখানে ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। । আমি আপনাদের পাহারাদার, দেখে রাখব।’
বিএলও এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার জন্যও দলের নেতাকর্মীদের পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর কথায়, ‘ভোটের সময় দিনরাত এক করে যেভাবে কাজ করেন, একইভাবে মানুষকে সাহায্য করতে হবে। নেতৃত্ব বাড়ি থেকে চা, রুটি, ডাল, ভাত করে পাঠাবেন। যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের সাহায্য করাটা কর্তব্য।’