সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: শ্মশানও ‘চুরি’ তৃণমূল জমানায়! মেমারিতে একটি শ্মশানের জমি দখল করে নেতারা গড়ে তুলেছেন নার্সিংহোম, পার্টি অফিস, এবং বাগান বাড়ি। পূর্বতন শাসকদলের নেতাদের এমন কীর্তি সামনে আসতেই তাজ্জব এলাকার বাসিন্দারা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপি। মেমারির বিজেপি নেতা ভীষ্মদেব ভট্টচার্য বৃহস্পতিবার বলেন, ‘বাগিলা মৌজার ২.০২ একর জায়গাজুড়ে রয়েছে শ্মশান। দাগ, ও জেএল নম্বর আমাদের কাছে রয়েছে। সেই শশ্মানের জমিতেই দোতলা বিল্ডিং তৈরি হয়। সেখানেই তিনজনের মালিকানায় নার্সিংহোম চলছে। ওই এলাকার পূর্ব দিকের জমিতে শিশু উদ্যান করা হয়েছিল। পরে সেটা ব্লকের এক নেতার বাগানবাড়িতে পরিণত হয়। সেখানে তিনি পার্টি অফিসও তৈরি করেন। জমিটি সরকারের খাতায় কলমে শ্মশান বলে উল্লেখ থাকলেও কীভাবে সেখানে বিল্ডিং তৈরি হল, তা নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার।’
বিজেপির দাবি, মেমারি শহরের এক জনপ্রতিনিধিও একনায়কততন্ত্র কায়েম করে রেখেছিলেন। নিজেকে স্বচ্ছতার প্রতীক বলে দাবি করতেন। অথচ, তাঁর আমলেই শহরে সব থেকে বেশি দুর্নীতি হয়েছে। সরকারি জায়গা দখল হয়েছে। শহরে নতুন বাড়ি নির্মাণে কাটমানি-কালচারের স্রষ্টাও তিনি। পুরসভার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগও ওঠে। সবকিছুই এখন সামনে আনতে চায় বিজেপি। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু অবশ্য বলেন, ‘দল কখনই দুর্নীতিকে সমর্থন করে না। যাঁরা এসব করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে প্রমাণ থাকলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। শ্মশানের জায়গায় কোনোকিছু করা যায় না।’
শহরের বাসিন্দারা বলছেন, বাগিলার ওই এলাকার তৃণমূলের এক নেতারই শাসন চলত। তিনি যা বলতেন, সেটাই সবাইকে মানতে হতো। তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস ছিল না কারও। ওই জায়গাটি সরকারি রেকর্ডে শ্মশান বলে উল্লেখিত। এলাকার সকলেই তা জানতেন। বিল্ডিং তৈরি হওয়ার সময় নানা গুঞ্জনও শুরু হয়েছিল। কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখাননি।
এদিন বিজেপির এক নেতা বলছিলেন, সমস্ত নথি সহ প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হবে। শ্মশানের জায়গা ফাঁকা পড়ে থাকে। সেখানে কোনো নির্মাণ হলে তা বেআইনি। তারপরও কীভাবে বিল্ডিং বা পার্ক তৈরি হল, তা নিয়ে তদন্তের দাবি করা হবে। ওই বিল্ডিংটি তৃণমূলের এক নেতা ও তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের নামে লিজ নিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে পঞ্চায়েতের ভূমিকাও দেখা উচিত।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জমি সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়েছে। সেগুলি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অনেক এলাকায় জলাশয়ের রেকর্ড বদলে বাস্তুজমিতে রূপান্তর করা হয়েছে। সেটাও করা যায় না। এসব কাজের পিছনে সরকারি কোনো আধিকারিক যুক্ত কিনা, সেটাও দেখা হচ্ছে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজেপির দাবি, মেমারিতে জমি নিয়ে প্রশাসন তদন্ত শুরু করলে অনেক রাঘব বোয়াল জালে জড়িয়ে যাবেন।