Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাঘব বোয়ালদেরও জেলে ঢোকানোর দাবি বিজেপির, আরামবাগে গ্রিনসিটি দুর্নীতি মামলায় ধৃতদের হেপাজতে নিল পুলিশ

পুরসভায় গ্রিনসিটি প্রকল্পে দুর্নীতি মামলায় ধৃত তিনজনকে বৃহস্পতিবার চুঁচুড়া আদালতে পাঠায় আরামবাগ থানার পুলিশ

রাঘব বোয়ালদেরও জেলে ঢোকানোর দাবি বিজেপির, আরামবাগে গ্রিনসিটি দুর্নীতি মামলায় ধৃতদের হেপাজতে নিল পুলিশ
  • ২৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: পুরসভায় গ্রিনসিটি প্রকল্পে দুর্নীতি মামলায় ধৃত তিনজনকে বৃহস্পতিবার চুঁচুড়া আদালতে পাঠায় আরামবাগ থানার পুলিশ। তাদের তিনজনকেই ১৪ দিনের পুলিশি হেপাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালতে। অভিযুক্ত তিন জনের মধ্যে কৌস্তভ মুখোপাধ্যায় আরামবাগ পুরসভার বিদ্যুৎ বিভাগের সুপারভাইজার। মানস কুণ্ডু পুরসভার প্রাক্তন সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ও স্বর্ণাভ ঘোষ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থার কর্তা। বুধবার তাঁদের গ্রেপ্তার করে আরামবাগ থানার পুলিশ। এদিন থানা থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত কৌস্তভ নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। গ্রিনসিটিতে আর্থিক তছরুপের মামলায় রাঘব বোয়ালদের জালে পোরার দাবি করেছে বিজেপি। আরামবাগের বিজেপি বিধায়ক হেমন্ত বাগ বলেন, আমরা চাই গ্রিনসিটি দুর্নীতি মামলায় জড়িত রাঘব বোয়ালদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিক। এই মামলায় নাম জড়িয়েছে পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন নন্দীর। তাঁর অধীনে গ্রিনসিটি মিশনের টাকা নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। মাস্টার মাইন্ডকে গ্রেপ্তার করতে হবে। জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে আরামবাগ পুরসভায় গ্রিনসিটি মিশনের আওতায় কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। তারমধ্যে প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা খরচে কয়েকটি স্কুলে সোলার প্যানেল বসানো হয়। অভিযোগ, অদক্ষ ঠিকাদার সংস্থাকে দিয়ে সেই কাজ করানো হয়েছিল। এমনকি, পুরো টাকাও পেমেন্ট করে দেওয়া হয়। তার জেরে মুখ থুবড়ে পড়ে ওই প্রকল্প। একাধিক স্কুল কর্তৃপক্ষ পুরসভায় অভিযোগ জানায়। পুরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান তৃণমূলের সমীর ভাণ্ডারি প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেন। সেই মতো খতিয়ে দেখা হয় প্রকল্পের কাজ। তারপরই সম্প্রতি আরামবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন চেয়ারম্যান। সমীরবাবু প্রাক্তন চেয়ারম্যান সহ সাতজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তাতে প্রাক্তন চেয়ারম্যান সহ আরামবাগ পুরসভার একাধিক ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেও চাপ বাড়ছে। যদিও তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। তাঁকে কি গ্রেপ্তার করা হতে পারে, তা নিয়ে আরামবাগ শহরজুড়ে চর্চা চলছে। পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। ধৃতদের হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তারসঙ্গে অভিযুক্তদের হেপাজতে নিয়ে মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নথি উদ্ধার করা হবে। এছাড়া কোনো ডিজিটাল প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ