Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

কর ফাঁকি রোধই লক্ষ্য, ই-ওয়ে বিলে ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা কমিয়ে ৫০ হাজার টাকা করল রাজ্য

ই-ওয়ে বিল নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। তারা জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্যের সীমানার মধ্যে যদি কোনো পণ্য পরিবহণ করা হয় এবং তার মূল্য যদি ৫০ হাজার টাকা বা তার বেশি হয়, তাহলে বাধ্যতামূলকভাবে ই-ওয়ে বিল ‘জেনারেট’ করতে হবে।

কর ফাঁকি রোধই লক্ষ্য, ই-ওয়ে বিলে ছাড়ের  ঊর্ধ্বসীমা কমিয়ে ৫০ হাজার টাকা করল রাজ্য
  • ১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ই-ওয়ে বিল নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। তারা জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্যের সীমানার মধ্যে যদি কোনো পণ্য পরিবহণ করা হয় এবং তার মূল্য যদি ৫০ হাজার টাকা বা তার বেশি হয়, তাহলে বাধ্যতামূলকভাবে ই-ওয়ে বিল ‘জেনারেট’ করতে হবে। আজ, ১ জুন থেকে এই নিয়ম চালু হবে রাজ্যে। এতদিন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ই-ওয়ে বিল বাধ্যতামূলক হওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক ঊর্ধ্বসীমা ছিল এক লক্ষ টাকা। তা কমিয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হলো। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে অবশ্য কিছুটা ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী মহল। সরকারের কাছে তাদের আর্জি, ৫০ হাজার টাকার ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে ১ লক্ষ টাকাই রাখা হোক।। তা না হলে ছোটো ব্যবসায়ীরা সংকটে পড়বেন। 

Advertisement

ই-ওয়ে বিল কী? যখন কোনো পণ্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ট্রাক বা গাড়িতে পাঠানো হয়, তখন জিএসটি পোর্টালে গিয়ে একটি অনলাইন পারমিট জেনারেট বা তৈরি করতে হয়। সেটাই ই-ওয়ে বিল। এই বিলের মাধ্যমে সরকার জানতে পারে, পণ্য কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছে। রাস্তায় চেকিং-এর সময় পুলিশ বা জিএসটি অফিসারকে এই বিল দেখানো হয়। পণ্য চুরি বা জিএসটি ফাঁকি রোখা যায় এই বিলের সাহায্য। নতুন নির্দেশিকায় রাজ্য সরকার বলছে, যদি কোনো পণ্য রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে যায় এবং সেই পণ্যটি যদি ‘জব ওয়ার্ক’ না হয়, তাহলে তার মূল্য  ৫০ হাজার টাকা বা তার বেশি হলেই পণ্য পরিবহণকারীকে বাধ্যতামূলকভাবে এই ওয়ে বিল সঙ্গে রাখতে হবে। ‘জব ওয়ার্ক’-এর ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর নয়। রাজ্য বাণিজ্যিক করদপ্তর স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যদি কোনো সংস্থা কোনো পণ্য বা কাঁচামাল তার কারিগরের কাছে পাঠায় অথবা ওই কারিগর অন্য কোনো কারিগরের কাছে তা পাঠায় এবং পণ্যটি সম্পূর্ণভাবে তৈরি হবার পর মূল সংস্থার কাছে ফিরে আসে,  তাহলে কোনো ক্ষেত্রেই ই-ওয়ে বিলের প্রয়োজন হবে না, সেই পণ্যের বা কাঁচামালের যা-ই দাম হোক না কেন। কিন্তু যদি সংশ্লিষ্ট সংস্থা ‘জব ওয়ার্ক’ ছাড়া বিক্রি করার জন্য বা ডিলারের কাছে পণ্য পাঠায়, তাহলে ৫০ হাজার টাকার সীমা পেরলেই ওয়ে বিল তৈরি করতে হবে। বাণিজ্যিক কর দপ্তরের এক কর্তার কথায়, ‘কয়েকটি রাজ্য বাদে গোটা দেশেই ই-ওয়ে বিলের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বসীমা ৫০ হাজার টাকা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেই সীমা এক লক্ষ টাকা ছিল। এই সুবিধা এবার তুলে দেওয়া হল। জিএসটি ফাঁকি রুখতে ও স্বচ্ছতা আনতেই এই নয়া নিয়ম।’
তবে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী মহল। রাজ্যের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির মূল ছাতা ‘কনফেডারেশন অব ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনস’-এর সভাপতি সুশীল পোদ্দার বলেন, ‘এতে ছোটো ব্যবসায়ীদের সমস্যা বাড়বে। তাঁরা ব্যবসা করবেন না বিলের কাগজপত্র তৈরি করবেন? কোনো বড়ো বা মাঝারি শিল্প সংস্থা হলে তার কর্মচারীরা এই বিল তৈরি করতে পারতেন। কিন্তু  ছোটো ব্যবসায় অনেক ক্ষেত্রে মালিক  ও কর্মী একজনই। তাঁর পক্ষে এই কাজ করা যথেষ্ট ঝামেলার। আমরা রাজ্য সরকারের কাছে দাবি করেছি, ই-ওয়ে বিলের ঊর্ধ্বসীমা পুনরায় এক লক্ষ টাকায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ