সংবাদদাতা, বালুরঘাট: জুলাই থেকে মাইনে নেই। পুজোর বোনাসও মেলেনি। এরই মধ্যে কাজ হারালেন জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন বিভাগের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ৩০ জন অস্থায়ী কর্মী। ৩০-৩৫ বছর তাঁরা ওই কাজ করছিলেন। পুজোয় কাজ হারিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। ঠিক কী কারণে অস্থায়ী কর্মীদের ছাঁটাই, তা এখনও স্পষ্ট করে জানায়নি দপ্তর। তবে বৃহস্পতিবার কাজ শেষে এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন দপ্তরের আধিকারিকরা। এমনকী, কর্মীদের কাছ থেকে অফিসের চাবি ও গাড়ি চালকদের কাছেও চাবি নিয়ে নেন। ফোন না তোলায় এবিষয়ে দপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার পার্থ দে’র কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মেসেজেরও উত্তর দেননি। এবিষয়ে জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা বলেন, এটা ওই দপ্তরের বিষয়। বিষয়টা জানা নেই।
পুজোয় কাজ হারিয়ে চোখে জল বছর আটান্নর অমূল্যকুমার মণ্ডলের। বলেন, বহু বছর ধরে এই অফিসের গাড়ি চালাতাম। গত বৃহস্পতিবার সাহেব ডেকে বলেন, আমাদের আর কাজে রাখা যাবে না। উপরমহল থেকে নাকি অর্ডার এসেছে। একটু থেমে অমূল্যর সংযোজন, এমনিতেই আমরা গত জুলাই মাস থেকে বেতন পাই না। তার উপর পুজোয় কাজ চলে গেল। সংসার চালাব কী করে?
আর এক কর্মী অশোক অধিকারী বলেন, তিন মাস ধরে বেতন অমিল। তারমধ্যে আমাদের সবাইকে ছাঁটাই করে দেওয়া হল। এর প্রতিবাদে পুজোর পরেই আমরা আন্দোলনে নামব। দপ্তর সূত্রে খবর, ওই কর্মীরা নানা জায়গায় কর্মরত ছিলেন। কেউ ফিল্ডওয়ার্ক করতেন। কেউ অফিসেই কাজ করতেন। ৩০ জন কর্মীর মধ্যে ৮ জনের ৬০ বছর পেরিয়েছে। ওই ৮ কর্মীকে সপ্তাহখানেক আগেই ছাঁটাই করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাকি ২২ জনকে ছাঁটাই করে দেওয়া হল।