Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শহিদ দিবসের পর উজ্জীবিত ‘আদি’ তৃণমূল, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদে উন্নয়নই লক্ষ্য জনপ্রতিনিধিদের

দক্ষিণ দিনাজপুরে শহিদ দিবসের পর তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়নকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বিস্তারিত পড়ুন।

শহিদ দিবসের পর উজ্জীবিত ‘আদি’ তৃণমূল, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদে উন্নয়নই লক্ষ্য জনপ্রতিনিধিদের
  • ২৪ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩৪
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: শহিদ দিবসের পর দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভুলে জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা এবার উন্নয়নকেই মূল লক্ষ্য  করে এগতে চাইছেন বলে রাজনৈতিক মহলের মত। এক সময় জেলা পরিষদে তৃণমূলের অভ্যন্তরে বিভাজনের চিত্র স্পষ্ট ছিল। বিপ্লব মিত্র ঘনিষ্ঠ ও বিরোধী, এই দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল জনপ্রতিনিধিদের একটা বড় অংশ। সেই সময় মৃণাল সরকার, অম্বরীশ সরকার, ঝর্ণা দেববর্মন, রেজিনা বিবি, ইরা রায়, রিয়াজুল মণ্ডল ও শুকলাল হাঁসদার মতো সদস্যদের বিপ্লব বিরোধী শিবিরের মুখ হিসেবেই দেখা হত।

Advertisement

রাজ্যে পালাবদলের পর জেলায় ক্ষমতার সমীকরণেও বড়ো পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে শহিদ দিবসের পর জেলার সিংহভাগ জনপ্রতিনিধি কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের সঙ্গে মিশে গিয়েছে। একসময় জেলার তৃণমূল সংগঠন ও জেলা পরিষদের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে প্রভাবশালী ভূমিকা ছিল প্রাক্তন মন্ত্রী বিপ্লব মিত্রের। উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে প্রশাসনিক নানা সিদ্ধান্ত-সব ক্ষেত্রেই তাঁর মতামত গুরুত্ব পেত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সমীকরণ অনেকটাই বদলে গিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জেলা পরিষদের বহু সদস্য এখন সরাসরি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আস্থা রেখে নতুন সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিচ্ছেন। জেলা পরিষদের মোট ২১টি জনের মধ্যে তিন সদস্য পদত্যাগ করায় বর্তমানে নির্বাচিত সদস্য রয়েছেন ১৮ জন। সিংহভাগ সদস্য এখন উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে আগ্রহী। জেলা পরিষদের সদস্য মৃণাল সরকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু অদৃশ্য রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক জনপ্রতিনিধি কাজ করার সুযোগ পাননি। এখন আমরা সবাই একসঙ্গে উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করতে চাই। শহিদ দিবসে জেলার বিপুল সংখ্যক কর্মী সমর্থকের উপস্থিতি সেই ঐক্যের বার্তাই দিয়েছে। জেলা পরিষদের সাধারণ সভা ডাকলেই আমরা উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করতে প্রস্তুত। সহকারী সভাধিপতি অম্বরীশ সরকার বলেন, পদে থাকলেও অতীতে অনেক ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ছিল না। এখন জেলার উন্নয়নের জন্য নতুনভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে জেলার মানুষের স্বার্থে কাজ করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ