নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বিক্ষোভের নামে বেআইনি জমায়েত। সরকারি সম্পত্তি তছনছ। গত ১৩ আগস্ট হাওড়া পুরসভার অস্থায়ী সাফাই কর্মীদের বিক্ষোভের ঘটনায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা দায়ের করে হাওড়া থানার পুলিস। তার প্রতিবাদে ফের সাফাই কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান বৃহস্পতিবার। এ নিয়ে রীতিমতো তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয় হাওড়া পুরসভায়। পুরসভা প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন শতাধিক অস্থায়ী সাফাই কর্মী। শুক্রবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাফাই কর্মীদের উস্কানি দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে সাধারণ মানুষের পরিষেবা ব্যাহত করা হচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ হাওড়া পুরসভার।
দৈনিক মজুরি বাড়াতে হবে অথবা মোটা অঙ্কের মাসিক বেতন চাই— এই দাবি নিয়ে গত কয়েক মাসে একাধিকবার হাওড়া পুরসভার সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে অস্থায়ী সাফাই কর্মীদের একাংশ। ইতিপূর্বে চারবার পুরসভার সঙ্গে আলোচনাতেও বসেছে সাফাই কর্মীদের সংগঠন। অস্থায়ী কর্মীদের বেতন কাঠামো ইচ্ছেমতো পুরসভা নির্ধারণ করতে পারে না, এই যুক্তি দেখিয়ে বারবার বিক্ষুব্ধদের বোঝানোর চেষ্টা করে পুরসভা। গত ১৩ আগস্ট একই দাবি তুলে হাওড়া পুরসভা ও জেলাশাসকের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান সাফাই কর্মীরা। অভিযোগ, বিক্ষোভের নামে বেআইনি জমায়েত ও সরকারি সম্পত্তি তছনছ করা হয়েছিল সেদিন। তারই ভিত্তিতে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ৬ জনের নামে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা দায়ের করে হাওড়া থানার পুলিস। প্রতিবাদে ফের এদিন পুরসভা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায় অস্থায়ী সাফাই কর্মীদের একাংশ। বিক্ষোভের জেরে হাওড়ার মহাত্মা গান্ধী রোডে দীর্ঘক্ষণ যানজট হয়। পাশাপাশি হাওড়া আদালত ও পুরসভায় বিভিন্ন কাজে আসা সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়েন। বিক্ষোভকারীদের পুলিস বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও তাঁরা সেখানেই স্লোগান দিতে থাকেন। শেষে তাঁদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই বিক্ষোভ প্রসঙ্গে অখিল ভারতীয় সাফাই মজদুর সঙ্ঘের রাজ্য সভাপতি সুজিত বাল্মিকী বললেন, ‘অস্থায়ী সাফাই কর্মীদের বেতন না বাড়ালে ও তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার না করলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট চলবে। হাওড়া শহরে সাফাইয়ের কোনও কাজ হবে না।’ বৃহস্পতিবার থেকেই কাজ বন্ধের হুঁশিয়ারি দেন শতাধিক অস্থায়ী কর্মী। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হাওড়া পুরসভা। পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেছেন, রাজনৈতিকভাবে চক্রান্ত করা হচ্ছে। অস্থায়ী সাফাই কর্মীদের অযৌক্তিকভাবে আন্দোলনে লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের সিস্টেম অনুযায়ী প্রত্যেক দপ্তরকে চলতে হয়। পুরসভা চাইলেই কর্মীদের বেতন ইচ্ছেমতো বাড়িয়ে দিতে পারে না। এটা সাফাই কর্মীরাও জানেন। তারপরেও বিজেপি সাফাই কর্মীদের উস্কানি দিচ্ছে। এতে মানুষের পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
পুরসভার দাবি, অবসরপ্রাপ্ত সাফাই কর্মীদের বকেয়া মেটাতে তাঁদের কাছে নামের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। বকেয়া টাকা দ্রুত মেটানোর আশ্বাস দিয়েছিল পুরসভা। কিন্তু কেউই সেই তালিকা জমা দিতে পারেননি। নিজস্ব চিত্র