নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: চিন্তার কিছু নেই। যোগ্যরা প্রত্যেকেই অন্নপূর্ণা যোজনায় ভাতা পাবেন। সোমবার জলপাইগুড়িতে এসে আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের জেলায় জেলায় গরিব পরিবারের বহু মহিলা এখনও অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতা পাননি। এনিয়ে তাঁদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। কোথাও কোথাও ভাতা না পেয়ে মহিলারা রাস্তায় নেমে ক্ষোভ-বিক্ষোভও দেখাচ্ছেন।
মহিলাদের এই ক্ষোভের আঁচ প্রশমিত করতেই এদিন শুভেন্দু বলেন, অন্নপূর্ণা যোজনায় এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ২৪ লক্ষ মহিলা ভাতা পেয়েছেন। আরও পাবেন। যাচাইপর্ব শেষ করে ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রকৃত প্রাপকদের প্রকল্পে নথিভুক্ত করা হবে। তাঁদের তালিকা পঞ্চায়েত, পুরসভায় টাঙিয়ে দেব আমরা। সেই তালিকা দেখে সাধারণ মানুষই বলতে পারবে, এর পাওয়া উচিত ছিল, এর পাওয়া ঠিক নয়। সেইমতো ফের তালিকা খতিয়ে দেখবে প্রশাসন।
কৃষকবন্ধুর ভেরিফিকেশন চলছে জানিয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পিএম কিষান সম্মাননিধিতে কেন্দ্রের তরফে মেলে ৬ হাজার। তার সঙ্গে ৩ হাজার টাকা দিচ্ছে রাজ্য। অর্থাৎ মিলবে ৯ হাজার। যাঁরা ওই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না, তাঁদের যদি এক শতকও জমি থাকে, কৃষকবন্ধু প্রকল্পে তাঁরা ন্যূনতম ৪ হাজার টাকা পাবেন। পেটের তাগিদে যাঁরা ভিনরাজ্যে কিংবা বিদেশে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে গিয়েছেন, তাঁদের ফিরে আসার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, বাংলায় এখন উন্নয়নের অমৃতকাল চলছে। সরকারি কর্মসংস্থান হবে। সবে ১০ সপ্তাহের সরকার। এতদিন ওবিসি নিয়ে একটা জট ছিল। আগের সরকার তোষণের রাজনীতি করতে গিয়ে জট পাকিয়েছিল। আমরা সেটা ঠিক করেছি।
পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, আপনারা ফিরে আসুন। যাঁদের পুরনো জবকার্ড আছে, তাঁরাই কাজ পাবেন, এমনটা নয়। নতুন করে জবকার্ড করুন। কোনো সমস্যা নেই। নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। ভিবি-জি রামজি প্রকল্পে আমরা ১২৫ দিনের কাজ দেব। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে যুবশক্তির আবেদনপত্র ভেরিফিকেশন ও পোর্টালে আপলোড শুরু হতে চলেছে বলে এদিন জানান শুভেন্দু। বলেন, স্নাতক উত্তীর্ণ ছেলেমেয়েদের যতদিন চাকরি কিংবা কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হচ্ছে, আমরা মাসে তিন হাজার টাকা ভাতা দেব। যাঁরা স্নাতক নন, তাঁরা মাসে দু’হাজার টাকা করে পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনায় সোলার প্লেট লাগানোর জন্য উৎসাহিত করেন মুখ্যমন্ত্রী। এতে ভরতুকি মিলবে বলে জানান। এসসি, এসটিদের অতিরিক্ত ১৫ হাজার টাকা ভরতুকি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ১৬ আগস্ট থেকেই আয়ুষ্মান কার্ড বিলি শুরু হচ্ছে রাজ্যে। সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, সিনিয়র সিটিজেনদের কোনো সমস্যা নেই। আমরা রাজ্যে ৪০ লক্ষ প্রবীণ মানুষকে আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড দিচ্ছি। এছাড়াও অন্য যোগ্যরা পাবেন। যাঁরা ওই কার্ড পাবেন না, তাঁদের একই সুবিধাযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমার কার্ড দেওয়া হবে।