সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ২০-২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে নকল নথি দিয়ে রাজ্যজুড়ে তৈরি করা হয়েছিল ভুয়ো পাসপোর্ট। দালালদের ‘কারসাজি’তে বাংলাদেশিদেরও পাসপোর্ট পেতে সমস্যা হয়নি। এবার সেইসমস্ত বিপুল সংখ্যক ভুয়ো পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করা শুরু করল দপ্তর। ভুয়ো পাসপোর্টের মালিকদের তিনবার করে চিঠি পাঠাচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। সমস্ত নথি নিয়ে রিজিওনাল পাসপোর্ট অফিসে হাজিরা দেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। অনেকে হাজির হচ্ছেন না। কেউ কেউ হাজির হলেও বৈধ নথি দেখাতে না পারায় তাঁদের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, নদীয়া জেলায় সবচেয়ে বেশি নোটিস পাঠানো হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন মুর্শিদাবাদের মতিউর রহমান। তিনি বলেন, দালালরা অনেক নাবালকদেরও ভুয়ো নথি দিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করে বিদেশে পাঠিয়েছে। তারা এখন সমস্যায় পড়ে গিয়েছে। ২০-২৫হাজার টাকার বিনিময়ে তারা এই কাজ করেছে। বিদেশে ভুয়ো পাসপোর্ট নিয়ে গিয়ে অনেকে ধরা পড়ে জেলও খাটছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাসপোর্ট তৈরির জন্য একাধিকবার নথি যাচাই করা হয়। ডিআইবি কর্মীরা বাড়িতে গিয়ে সবকিছু যাচাই করেন। তারপরও কীভাবে দালালরা ভুয়ো নথি দিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করতে পারল তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ২০১৯ সালের ৪সেপ্টেম্বর মুর্শিদাবাদের এক ব্যক্তির পাসপোর্ট ইস্যু হয়েছিল। তাঁকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘ভুল তথ্য দিয়ে আপনি পাসপোর্ট তৈরি করেছেন। আপনাকে সংশ্লিষ্ট অফিসে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।’ বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, তৃণমূল জমানায় এসব কিছু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের একাংশ এই চক্রে যুক্ত না থাকলে এমনটা হতে পারে না। বাংলাদেশিদেরও টাকার বিনিময়ে পাসপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। দেশের সুরক্ষা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পাসপোর্ট দপ্তর বিগত ১৫বছরে ইস্যু হওয়া সমস্ত পাসপোর্টের নথি যাচাই করছে। এসআইআরে অনেকের নাম বাদ গিয়েছে। অথচ তাঁদেরও পাসপোর্ট ইস্যু করে দেওয়া হয়েছে। মূলত বিদেশে কাজ করতে যাওয়ার জন্য বেশিরভাগ ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরি করা হয়েছিল। মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, বীরভূম এবং পূর্ব বর্ধমানের একাংশে আর্থিক সমস্যার জন্য নাবালকদেরও বিদেশে কাজের জন্য পাঠানো হয়। ১৮বছর বয়স না হলে বিদেশে কোনো সংস্থা কাজে নেয় না। দালালরা বয়স বাড়িয়ে তাদের পাসপোর্ট তৈরি করে দিয়েছে। ডিআইবি দপ্তরের আর এক আধিকারিক বলেন, এখন পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে সমস্ত নথি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগে কিছুটা শিথিলতা ছিল। সেই সুযোগ নিয়েছে দালালরা। সারা রাজ্যেই বহু পাসপোর্ট বাতিল হবে। তবে বাতিলের আগে তাদেরকে অফিসে ডেকে নথি জমা করার জন্য বলা হয়েছে। বৈধতা প্রমাণ করতে পারলে তা বাতিল হবে না।